রুশ দূতের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইউক্রেনসহ পুরো ইউরোপের জন্য ‘বিশাল’ নিরাপত্তা চুক্তির ইঙ্গিত ট্রাম্পের

রাশিয়ার একজন শীর্ষ দূতের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যে চুক্তি পুরো ইউরোপকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত কিছু না থাকায় ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটি অনেক বড় কিছু হতে যাচ্ছে। এতে কেবল ইউক্রেন নয়, বরং পুরো ইউরোপও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এটি একটি চমৎকার ও বড় চুক্তি হবে, যা সবাইকে আনন্দিত করবে।’ তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ট্রাম্প এমন মন্তব্য করলেন রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভের সঙ্গে সাক্ষাতের পর। দিমিত্রিভ বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন এবং তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত হিসেবে কাজ করছেন। এর আগেও একাধিকবার ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য চুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও বৃহস্পতিবার ‘এক্স’-এ একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, সব পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করতে, ভবিষ্যতে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে এবং আরও স্থিতিশীল ও সুনিশ্চিত নিরাপত্তা পরিবেশ গড়ে তুলতে একটি বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন।
কুশনার বিবৃতিতে বলেন, গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপ ও রাশিয়া একটি টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম করছে। কয়েক দশকের অবিশ্বাস, পরস্পরবিরোধী নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং এই যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক পরিণতি বিষয়টিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। তবে তাঁর ভাষায়, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য এটি অপরিহার্য।
কুশনার কোথাও উল্লেখ করেননি যে রাশিয়া নিজেই ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়েছে। ইউরোপ যেসব ‘হাইব্রিড’ হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে, সে বিষয়েও তিনি কোনো কথা বলেননি। কুশনার রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে অধিকতর স্বচ্ছতা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমাতে পারস্পরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
তাঁর এই মন্তব্য ইউরোপের কিছু অংশে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে, কারণ মস্কোর দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো—পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর উপস্থিতি নিজেই উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি কারণ।
কুশনারের ভাষ্যমতে, ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আলোচনার সূত্রপাত করেছেন।
তবে এই সংঘাত সম্পর্কে অবগত ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ঠিক কী বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন, তা তাঁদের জানা নেই।




