দুই দশক মহাবিশ্বের বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ শেষে বুধবার পৃথিবীতে ফিরে পুড়ে যাবে নাসার সুইফট টেলিস্কোপ

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলো নিয়ে দুই দশক ধরে গবেষণা করা নাসার নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি বুধবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর সেই ফেরার পথেই এটি পুড়ে যাবে।
তিনটি টেলিস্কোপ নিয়ে মাত্র দুই বছরের জন্য নকশা করা এই উপগ্রহটি এখন আর দিক ঠিক রাখতে বা পর্যবেক্ষণ করতে পারছে না, আর এর প্রত্যাবর্তন হবে অনিয়ন্ত্রিত।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড ওজনের মহাকাশযানটি ৪ নভেম্বর ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে (ইস্টার্ন সময়) বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানবে। নাসা বলেছে, মহাকাশযানটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যাবে, তবে কিছু অংশ টিকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, টিকে থাকা যেকোনো অংশের পড়ার স্থান এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধে বদলাতে পারে, এবং তা নির্ভর করবে এটি ঠিক কখন বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে তার ওপর। টিকে থাকা টুকরোগুলো দক্ষিণ অক্ষাংশ ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশ ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রির মধ্যেই সীমিত থাকবে বলেও জানিয়েছে নাসা।
নাসা আরও বলেছে, পৃথিবীর কারও ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি অসম্ভাব্য — প্রায় ২ হাজার ১০০ ভাগের এক ভাগ। নাসা ও স্পেস ফোর্স এই প্রত্যাবর্তন পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং পূর্বাভাস হালনাগাদ করবে।
মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, মহাজাগতিক গামা-রে বার্স্ট অন্বেষণ এবং সেগুলোর অবস্থান ও শক্তির পর্যবেক্ষণ দ্রুত পৃথিবীতে ফেরত পাঠানোর জন্য ২০০৪ সালে এই অবজারভেটরিটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
কার্যকালজুড়ে অবজারভেটরিটি ২ হাজারের বেশি গামা-রে বার্স্ট শনাক্ত ও অনুসরণ করেছে। বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ হিসেবে এগুলোকেই বিবেচনা করা হয়।
নাসা বলেছে, এই শক্তির বিস্ফোরণ প্রায় প্রতিদিনই ঘটে; এগুলো গামা বিকিরণের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র ঝলক, যা সব দিক থেকে আসে এবং কয়েক মিলিসেকেন্ড থেকে কয়েক শত সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
তবে এগুলোর কারণ বিজ্ঞানীরা এখনো জানেন না। তত্ত্ব অনুযায়ী, এগুলো হতে পারে কোনো বিশাল নক্ষত্রের বিস্ফোরণে কৃষ্ণগহ্বরের জন্ম, কিংবা দুটি নিউট্রন তারার সংঘর্ষ, অথবা অন্য কোনো ঘটনা। সুইফট উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল নাসার মিডিয়াম এক্সপ্লোরার বা মিডেক্স কর্মসূচির অংশ হিসেবে।
গত জুলাইয়ে সুইফট একটি ঘুরে বেড়ানো বিশাল কৃষ্ণগহ্বরকে একটি নক্ষত্র ছিন্নভিন্ন করতে দেখেছিল। কোনো নক্ষত্র একটি অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বরের মারাত্মক কাছাকাছি চলে গেলে এমন ঘটনা ঘটে; ছিন্নভিন্ন নক্ষত্রের টুকরোগুলো কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে উত্তপ্ত হয়ে এমন আলো তৈরি করে, যা মহাবিশ্বজুড়ে দূর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দেখতে পান। বিজ্ঞানীরা এমন ঘটনাকে টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট বলেন।
মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষক রবার্ট স্টেইন সে সময় বলেছিলেন, গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে দূরে ঘুরে বেড়ানো, অন্যথায় অদৃশ্য অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বরগুলো খুঁজে বের করার উপায় হিসেবেই তাঁরা এমন নক্ষত্র-ছিন্নভিন্নের ঘটনাগুলো খুঁজছিলেন। দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ওই ঘটনাটি অতিবেগুনি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে এর পুরো আশ্রয়দাতা গ্যালাক্সিকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল, সাময়িকভাবে প্রায় ১ হাজার কোটি সূর্যের আলোর সমান বিকিরণ ছড়িয়েছিল।


