হুতিদের সহায়তায় আইআরজিসি ও হিজবুল্লাহর ২১ বিশেষজ্ঞ পাঠানোর অভিযোগ ইয়েমেন সরকারের
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ হুতিদের সামরিক অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সাহায্য করতে ২১ জন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল ইব্রাহিম হাইদান মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, এই দলের ১৪ জন সদস্য আইআরজিসির এবং সাতজন হিজবুল্লাহর।
হাইদানের ভাষ্যে, এসব বিশেষজ্ঞের ভূমিকা থেকে বোঝা যায়, বিদেশি সম্পৃক্ততা এখন অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের গণ্ডি পেরিয়ে ‘সরাসরি তদারকি এবং অভিযান পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলায় অংশগ্রহণে’ পৌঁছেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আটজন হোদেইদায়, চারজন সানায়, চারজন সাদায়, দুজন হাজ্জায়, দুজন আমরানে এবং একজন উপকূলীয় শহর খোখায় রয়েছেন।
তাঁদের বিশেষজ্ঞতার ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সামরিক যন্ত্রাংশ চোরাচালান, নৌ অভিযানের সমন্বয় ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য হিসেবে বাছাই, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা ও স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন উন্নয়ন এবং যোদ্ধাদের মাইন পোঁতা ও অবরোধের কৌশলে প্রশিক্ষণ।
হাইদান সতর্ক করে বলেন, এসব তৎপরতা ‘বাব আল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি’ এবং এর মাধ্যমে সামরিক দক্ষতা অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছেও পৌঁছে যেতে পারে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে, তাদের অর্থায়ন ও অস্ত্র নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২১৬ ও ২৬২৪ নম্বর প্রস্তাবের আওতায় অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে।
এই বিবৃতি এমন সময়ে এল, যখন হুতিরা সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মানদেব এলাকা দখল করার পর ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারের অনুগত যোদ্ধারা পাঁচটি প্রদেশে হুতিদের সঙ্গে লড়াই করছে।
লড়াই আবার শুরু হওয়ায় ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতিতে আসা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। ওই যুদ্ধবিরতির আগে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চলছিল, যা প্রথম শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। ২০১৫ সালে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক জোটের নেতৃত্বে যুদ্ধে যোগ দেয়।
ইয়েমেন সরকার দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, আইআরজিসি হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলে, হুতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করে। হুতিরা ইরানের সঙ্গে তাদের জোটের কথা স্বীকার করে, তবে তারা ইরানের প্রক্সি—এমন অভিযোগ তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছে। হিজবুল্লাহও এর আগে ইয়েমেনের যুদ্ধে তাদের ভূমিকার কথা অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো হুতিদের হামলার শিকার হয়েছে। রিয়াদ অভিযোগ করেছে, এই উত্তেজনা বাড়াতে ইরান উৎসাহ দিচ্ছে।


