খারকিভে হাসপাতালে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত অন্তত ৭৩; সারা দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ধারাবাহিক আক্রমণ
ইউক্রেনের খারকিভ শহরে একটি হাসপাতালে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। রাতের অন্ধকারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ বোমা দিয়ে ওই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটিতে আঘাত হানা হয়। একই রাতে ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, রুশ বাহিনী সরাসরি একটি নগর ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে আঘাত হেনেছে। এতে ৭৩ জন আহত হন এবং হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
খারকিভের মেয়র ইহর তেরেখভ টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন, সোমবার রাতের বোমাবর্ষণে হাসপাতালটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর এক হাজারের বেশি জানালা ভেঙে গেছে।
হাসপাতাল ছাড়াও খারকিভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যাকে জেলেনস্কি ‘জটিল ও ব্যাপক আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল জ্বালানি খাত—বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সাবস্টেশন। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো হলো ওদেসা, চেরকাসি, জিতোমির, ভিনিৎসিয়া, খারকিভ, দনিপ্রো, চেরনিভৎসি, চেরনিহিভ ও রিভনে।
জেলেনস্কির হিসাবে, রাতভর রাশিয়া ২৮৯টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ছুড়েছে; সঙ্গে ছিল ১৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলার এক দিন আগেই একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রুশ হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ভিনিৎসিয়া, দনিপ্রোপেত্রভস্ক ও খারকিভ অঞ্চলের বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ওই স্থাপনাগুলো ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও সামরিক কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করত।
হামলার পর মঙ্গলবার সকালে জিতোমির অঞ্চলে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর ভিতালি বুনেচকো। হামলার জেরে ওদেসায় নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ (লোডশেডিং) চালু করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল শহরে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুই কর্মী আহত হয়েছেন এবং সেখানে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছেন গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সোমবার রাতে এক্সে লিখেছেন, আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উত্তেজনা প্রশমন, মানবিক প্রচেষ্টা এবং শান্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
উইটকফ আরও জানান, মার্কিন আলোচকরা এ সপ্তাহে ব্রাসেলসে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেসব আলোচনায় ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ইউরোপের যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো এবং ইউক্রেনের পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
এই হামলা এমন এক সময়ে এল, যখন বিশ্বের নজর মঙ্গলবারের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। কিয়েভ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি অড্রে ম্যাকআলপাইন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেনীয়দের জন্য এটি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি।
ম্যাকআলপাইন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এবং প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো মার্কিন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ আসেনি। অথচ যুদ্ধের শুরুর বছরগুলোতে বাইডেন প্রশাসনের সময় সামরিক সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার।
তাঁর ভাষায়, সেই ঘাটতি মূলত ইউরোপই পূরণ করেছে; তবে ইউক্রেন নিশ্চিতভাবে চায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আবার শুরু হোক—ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এটি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।




