শ্বাসরোধের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুখাদ্য ‘ট্রাক্টর হুইলস’ বার সব স্বাদ প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের জৈব শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ান্স আপন আ ফার্ম স্বেচ্ছায় তাদের ‘ট্রাক্টর হুইলস’ অর্গানিক সফট-বেকড বারের সব স্বাদ বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছে। সম্ভাব্য শ্বাসরোধের ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) শুক্রবার এক ঘোষণায় সতর্ক করে বলেছে, প্রত্যাহার করা এই বার কেউ যেন না খায় বা ছোট শিশুদের না খাওয়ায়; এগুলো ফেলে দিতে হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুরা ট্রাক্টর হুইলস বার খাওয়ার পর শ্বাসরোধ ও ‘শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে শ্বাস নিতে না পারার’ একাধিক অভিযোগ তারা পেয়েছে।
এফডিএ জানিয়েছে, চিবানোর পর পণ্যটি শুকনো ও আঠালো একটি পিণ্ডে পরিণত হয় বলে জানা গেছে, যা পিঠে চাপড় দেওয়া বা হাইমলিখ কৌশলের মতো সাধারণ শ্বাসরোধ-প্রতিরোধ পদ্ধতিতেও সরানো নাও যেতে পারে। কিছু শ্বাসরোধের ঘটনায় জরুরি সেবা ডাকতে হয়েছে এবং হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়েছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
ওয়ান্স আপন আ ফার্ম নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, তারা এ ধরনের তিনটি অভিযোগ পেয়েছে এবং আক্রান্ত পণ্য সরিয়ে নেওয়া ও পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এফডিএর সঙ্গে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জন ফোরেকার এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং ট্রাক্টর হুইলস পণ্যের বৃহত্তর মূল্যায়নের আওতায় তারা এই পরিবারপ্রিয় পণ্যগুলো সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে নতুন করে তৈরি (রিফর্মুলেট) করছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রত্যাহারের আওতায় সফট-বেকড বারের সব লট কোড, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সব স্বাদ পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আপেল, মিষ্টি আলু ও পালং শাকের ট্রাক্টর হুইলস বার; স্ট্রবেরি, কুমড়া ও বিটের বার; এবং কলা, কুমড়া ও ফুলকপির বার।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বারগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে এবং বিতরণ কেন্দ্র ও খুচরা দোকানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও পুয়ের্তো রিকোতে বিতরণ করা হয়েছিল। এফডিএ জানিয়েছে, আক্রান্ত পণ্য কস্টকো, টার্গেট ও ওয়ালমার্টের মতো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়েছে এবং অ্যামাজনসহ অন্যান্য তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের মাধ্যমেও বিক্রি হয়ে থাকতে পারে।
এফডিএ ভোক্তাদের কোনো স্বাদ বা ধরনের ট্রাক্টর হুইলস বার না কিনতে এবং শিশুদের না খাওয়াতে সতর্ক করেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘অভিভাবকেরা আমাদের প্রতিটি পণ্য কেনার সময় আমাদের ওপর আস্থা রাখেন। আমরা সেই আস্থা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছি, আর সে কারণেই আমরা এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ যাদের কাছে প্রত্যাহার করা বার রয়েছে, তারা ক্রয়ের রসিদ দেখিয়ে অর্থ ফেরত চাইতে পারবেন অথবা প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসেবা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।




