রিয়াদ বিমানবন্দরে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের, আরও দুই ঘাঁটিতে হামলার কথাও জানাল গোষ্ঠীটি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।
বারবার হামলার শিকার হওয়ার পরও সৌদি কর্তৃপক্ষ রবিবার, ২৫ অক্টোবর, বিমান চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি এই হামলার দাবি জানায়।
কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুবাই, প্যারিস ও কায়রো থেকে আসা ফ্লাইটসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। তবে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, কিছু ফ্লাইট ছেড়ে গেলেও বেশিরভাগই বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে ভোরে রিয়াদে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বাসিন্দাদের মোবাইলে বিমান হুমকির সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
রবিবার হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানান, তাঁদের দল ডজনখানেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তিনটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলাটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেছে।
সারি আরও জানান, রিয়াদ ছাড়াও খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের জাজান নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসেই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো এক হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হয়েছিলেন, যা গত এক দশকেরও বেশি সময়ে সৌদি আরবে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটিতে নতুন কোনো হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকার ঘটনায় সৌদি আরবের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর প্রভাবে দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া মর্যাদাপূর্ণ মোটরস্পোর্টস প্রতিযোগিতা ডাকার র্যালিসহ বেশ কিছু বড় আয়োজন বাতিল, স্থগিত বা স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।
হুথির সামরিক মুখপাত্র সারি সতর্ক করে বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দর এখনো অনিরাপদ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু। তাই আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় কোনো বিমান সংস্থা যেন এই বিমানবন্দর ব্যবহার না করে; অন্যথায় যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির দায় সৌদি প্রশাসনকেই নিতে হবে।
রবিবার পরে সারি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ৫৬ বার হামলা চালিয়েছে। এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, সৌদি আরব এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে হাজ্জাহ, লাহজ, আমরান, সাদা, আল-জাউফ, তাইজ ও ইব্ব গভর্নরেটের বেসামরিক স্থাপনায় ৫৬ বার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে; এসব বিমান খামিস মুশাইত ও তাইফের ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং নাজরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস রিয়াদে পৌঁছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে, লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবুতে মোতায়েন মার্কিন প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহাল রাখার সৌদি অনুরোধে গ্রিস ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
এর আগে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, তারা অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। হুথি এবং ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পরই নতুন করে এই লড়াই শুরু হয়।
রবিবার খামিস মুশাইতের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ সকাল থেকে খুব ভারী বোমাবর্ষণ চলছে এবং বিস্ফোরণের কারণে সবকিছু কেঁপে উঠছে।



