কঙ্গোতে ইবোলা সতর্কতায় সাড়া দিতে গিয়ে হামলায় নার্স নিহত, আরেক স্বাস্থ্যকর্মী গুরুতর আহত
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা সতর্কতায় সাড়া দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে একজন নার্স নিহত হয়েছেন এবং আরেক স্বাস্থ্যকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক টেডরোস আধানম গেব্রেয়েসুস রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, হামলাটি ঘটেছে শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শোপো প্রদেশের বাফওয়াসেন্দে শহরে।
টেডরোস বলেন, এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে মানুষকে রক্ষায় যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের প্রত্যেককে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে পারতে হবে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সব সময় সুরক্ষিত রাখতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবিও এক্সে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কোনো লক্ষ্যবস্তু নয়, ইবোলা প্রাদুর্ভাবে সাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং ভুল তথ্য ও ভয় যেন কখনো সহিংসতাকে উসকে না দেয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো এই হামলা বা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৮০০-র বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৭০০-র বেশি মানুষ মারা গেছেন। এটিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব বলা হয়েছে।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতি নিয়ে ব্যাপক অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কোনো কোনো মানুষ ইবোলাকে ভুয়া বলেও উড়িয়ে দিচ্ছেন।
সাড়াদানকারীরা বলছেন, রোগটি নিয়ে মানুষের সংশয় তাঁদের কাজ জটিল করে তুলেছে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকা ও নতুন হটস্পটগুলোতে, যেখানে ইতিমধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি রয়েছে।
গত মাসে উত্তর কিভুতে একজন রাজনীতিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যিনি রেডিও অনুষ্ঠানে সরকারের ইবোলা মোকাবিলার পক্ষে কথা বলেছিলেন এবং সামাজিক দূরত্ব ও হাত ধোয়ার মতো ব্যবস্থা মেনে চলতে মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মে মাসে প্রাদুর্ভাবের শুরুতেও এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি পৃথক হামলায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুটি তাঁবুতে আগুন দিয়েছিলেন। সাড়াদানকারীদের ভাষ্য, নির্ধারিত স্বাস্থ্য এলাকায় কোনো কোনো বাসিন্দা দলের সদস্যদের আটকে রেখেছেন বা হুমকি দিয়েছেন।
বর্তমান প্রাদুর্ভাব পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার চারটি দেশে ছড়িয়েছে, যা মহাদেশে যেকোনো ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত ভৌগোলিক বিস্তার।
রবিবার উগান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস বারিয়োমুনসি ঘোষণা করেন, কঙ্গো ভ্রমণের ইতিহাস নিয়ে দেশে ফেরা সব নাগরিককে ২১ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। উগান্ডা জুলাইয়ে তার সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবের সমাপ্তি ঘোষণা করে নিজেকে ইবোলামুক্ত বললেও দেশটির মধ্য দিয়ে যাওয়া দুজন পরে কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক রয়েছেন।
ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায়। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও ধরনটির কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উপসর্গ দেখা দিতে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সংস্থাটি ২৩ অক্টোবরের হালনাগাদে সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানালেও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে।




