বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায়: ১ নভেম্বর মুখোমুখি ইওতোভা ও গিউরভ, ভোট পড়েছে কম
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াচ্ছে; ভোট শেষ হয়েছে কম ভোটার উপস্থিতিতে এবং কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সীমা পার হতে পারেননি।
রোববারের বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইওতোভা পেয়েছেন ৩৫ থেকে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। তিনি এখন ১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হবেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গিউরভের, যিনি পেয়েছেন ৩১ থেকে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান দেমেরদজিয়েভ বলেছেন, নির্বাচন ‘শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে, ভোট কেনা ও ভোট কারসাজির প্রচলিত চর্চা ছাড়াই’ — বুলগেরিয়ান ন্যাশনাল টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এই দেশটির নির্বাচনে ২৭ জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
দ্বিতীয় দফা প্রত্যাশিতই ছিল; প্রথম দফায় জিততে হলে ভোটার উপস্থিতি নিবন্ধিত ভোটারের ৫০ শতাংশের বেশি হতে হয় এবং প্রার্থীকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হয়।
মেজার পোলিং এজেন্সির তথ্যে, স্থানীয় সময় রাত ৮টা (১৮:০০ জিএমটি) পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ২২ দশমিক ২ শতাংশ।
ভোটের আগের প্রচারে প্রধান বিষয় ছিল জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি, কৃষ্ণসাগরে হামলা এবং রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ। প্রচারপর্বে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে জাহাজে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা শিরোনামে ছিল, যার নিন্দা করেছেন দুই প্রার্থীই।
বামপন্থী ইওতোভাকে সমর্থন করছেন প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ, যাঁর প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া দল এপ্রিলের সংসদ নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হন ইওতোভা। সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও সাংবাদিক ইওতোভা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া ও সোশ্যালিস্ট পার্টি উভয়ের সমর্থন নিয়ে।
তিনি জিতলে বুলগেরিয়াকে ইউরোপের সঙ্গে সামঞ্জস্যে রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির আহ্বান জানাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভোট দেওয়ার পর ইওতোভা বলেন, তিনি বুলগেরিয়ার ‘দারিদ্র্যের ভয়াবহ সমস্যা’র পাশাপাশি ‘বৈষম্য ও আঞ্চলিক বিরোধ’ মোকাবিলা করতে চান — এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা থাকতেই হবে।’
গিউরভের প্রতি সমর্থন রয়েছে দেশটির পশ্চিমাপন্থী বিরোধীদের; প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে সই করেছিলেন। রোববার তিনি বলেন, তিনি চান ‘এমন একটি বুলগেরিয়া, যা সামনের দিকে তাকায় — ইউরোপীয়, মুক্ত ও গর্বিত একটি দেশ’। ভোটের পর তিনি বলেন, ‘সামনের সপ্তাহে বুলগেরিয়াকে দুই ব্যক্তিত্ব ও দুই দিকের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে,’ এবং পরের দফার আগে ইওতোভাকে বিতর্কে আমন্ত্রণ জানান।
বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব দেন, আইনে ভেটো দিতে পারেন এবং চুক্তিতে সই করতে পারেন।


