যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাড়ছে এআই দিয়ে তৈরি প্রচারণার বিজ্ঞাপন, কয়েক ডজন বিজ্ঞাপন শনাক্ত করেছে বিবিসি ভেরিফাই
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপনের ব্যবহার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রচারণায় এসব বিজ্ঞাপন কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা যাচাই করে দেখেছে বিবিসি ভেরিফাই।
বিবিসি ভেরিফাই কয়েক ডজন এআই বিজ্ঞাপন অনুসরণ ও শনাক্ত করেছে। প্রচারণায় এগুলো কী ভূমিকা রাখছে এবং ভোটারদের কাছে কী ধরনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, সেটাই ছিল এই অনুসন্ধানের মূল বিষয়।
এসব বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশের অর্থায়ন করছে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো। তবে শুধু বাইরের গোষ্ঠীই নয় — কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের লড়াইয়ে প্রার্থীরা নিজেরাই সরাসরি এআই বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছেন বলেও বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের ফল কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে, যা প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদের নীতি ও কর্মসূচির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে প্রতিটি আসনের লড়াইয়ে প্রচারণার প্রতিটি কৌশলই বাড়তি গুরুত্ব পায়।
এআই প্রযুক্তি দিয়ে এখন খুব কম সময়ে ও কম খরচে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তৈরি করা যায়। ছবি, কণ্ঠ ও ভিডিও কৃত্রিমভাবে তৈরি বা বদলে দেওয়ার সুযোগ থাকায় প্রচারণা দলগুলো আগের চেয়ে অনেক দ্রুত বার্তা তৈরি ও ছড়িয়ে দিতে পারছে। গবেষকদের মতে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনেই সেই প্রবণতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য বা কণ্ঠ আসল বলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কোনটি আসল আর কোনটি এআই দিয়ে বানানো, তা আলাদা করা সাধারণ ভোটারের জন্য অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের মতো যাচাইকারী দলগুলো এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোন বিজ্ঞাপনটি এআই দিয়ে তৈরি, তার পেছনে অর্থায়নকারী কারা এবং বিজ্ঞাপনটি ভোটারদের কীভাবে প্রভাবিত করতে চাইছে — এসব খুঁটিয়ে দেখাই তাদের কাজ।
বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে চলা বিজ্ঞাপন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণার পুরোনো বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এবার সেই প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে এআই যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতার ধরনই বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রার্থীদের সরাসরি এআই বিজ্ঞাপন ব্যবহারের বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। আগে প্রার্থীরা অনেক সময় বিতর্কিত বিজ্ঞাপন থেকে নিজেদের দূরত্ব রাখতেন। এখন কেউ কেউ নিজের প্রচারণাতেই এআই কৌশল গ্রহণ করছেন, যা প্রযুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা মূলধারার রাজনীতিতে বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
নভেম্বরের ভোট যত এগিয়ে আসবে, এআই বিজ্ঞাপনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা। ফলে ভোটার, সংবাদমাধ্যম ও যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান — সবার জন্যই সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের গুরুত্ব বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু প্রার্থীদের লড়াই নয়, প্রযুক্তি বনাম সত্য যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে। এআই বিজ্ঞাপনের এই উত্থান ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের প্রচারণাকেই প্রভাবিত করতে পারে।






