গায়ের গাঢ় রঙ দেখে অবৈধ অভিবাসী ভেবে আইসিই প্রায় আটক করেছিল—‘ট্যান মম’ প্যাট্রিসিয়ার বিস্ফোরক দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির আলোচিত ‘ট্যান মম’ প্যাট্রিসিয়া ক্রেন্টসিল দাবি করেছেন, তাঁর বিখ্যাত গাঢ় ব্রোঞ্জ রঙের ত্বকের কারণে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং প্রায় হাতকড়া পরিয়ে আটক করে ফেলেছিলেন। ‘লাইট. ট্যান. আপ.’ পডকাস্টে এই বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন তিনি।
ক্রেন্টসিলের বর্ণনা অনুযায়ী, বান্ধবীদের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা তাঁকে থামান। পডকাস্টে অভিনেতা টম আর্নল্ডের পাশাপাশি হাজির হয়ে তিনি এই ঘটনার কথা বলেন।
ক্রেন্টসিল বলেন, ‘আমরা যখন বের হচ্ছিলাম, আইসিইর লোকজন আমাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, আমি মার্কিন নাগরিক কি না। আমি বললাম, হ্যাঁ। জানেন, এটা আমার মাথায় আঘাত করেছিল।’ তাঁর দাবি, বিষয়টি সেখানেই থামেনি।
দীর্ঘদিনের ব্রোঞ্জিংপ্রেমী ক্রেন্টসিলের অভিযোগ, মুখোমুখি হওয়াটা তাঁর গায়ের রঙের চেয়েও গাঢ় মোড় নিতে যাচ্ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আমি এতটাই ট্যান ছিলাম যে, তারা আমাকে হাতকড়া পরাতে যাচ্ছিল... আর নিয়ে যেতে যাচ্ছিল। ঈশ্বর জানেন কোথায়।’ অজানা কোনো জায়গায় আটক করে নিয়ে যাওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
ক্রেন্টসিল আরও বলেন, ‘একবার ওই ট্রাকগুলোতে উঠলে আপনি আর জানেন না কোথায় যাচ্ছেন। আমি ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু নিজেকে ধরে রেখেছিলাম এবং পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলাম।’ পুরো ঘটনাটিকে তিনি ‘ভয়ংকর’ বলে বর্ণনা করেছেন।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘কিন্তু রঙ আর জাতীয়তা নিয়ে তারা খুব বর্ণবাদী আচরণ করে।’ এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, গায়ের রঙ দেখেই তাঁকে সন্দেহ করা হয়েছিল।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। ক্রেন্টসিল নির্দিষ্ট করে বলেননি, কথিত ঘটনাটি কখন বা কোথায় ঘটেছিল। ফক্স নিউজ ডিজিটালও তাঁর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফক্স নিউজ ডিজিটালের অনুরোধে আইসিই তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। ফলে এই দাবির বিষয়ে অভিবাসন সংস্থাটির কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ক্রেন্টসিলের গাঢ় ব্রোঞ্জ ত্বক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় পর্যায়ে মনোযোগ কেড়েছে। তাঁর অস্বাভাবিক ট্যানই তাঁকে ট্যাবলয়েড আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে এবং ‘ট্যান মম’ নামটি পরিচিতি পায়।
আলোচনায় উঠে আসার শুরুটা ২০১২ সালে। সেবার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, তিনি তাঁর তখন পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিউ জার্সির একটি স্যালনে ট্যানিং বেডে নিয়ে গিয়েছিলেন। মেয়ে রোদে পোড়া অবস্থায় স্কুলে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে দ্বিতীয় মাত্রার শিশু বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়; বিষয়টি নিয়ে তাঁর চরম ট্যানিং অভ্যাস ও অভিভাবকত্ব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গঠন ছাড়াই শেষ হয়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসেক্স কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি ক্রেন্টসিলকে অভিযুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং অভিযোগগুলো বাতিল হয়ে যায়।
ক্রেন্টসিল এরপর নিউ জার্সি ছেড়ে ফ্লোরিডায় চলে গেছেন। রৌদ্রোজ্জ্বল এই অঙ্গরাজ্যেই এখন থাকেন তিনি, যাঁর বিখ্যাত গাঢ় ট্যান একসময় তাঁকে ট্যাবলয়েড শিরোনামে নিয়ে এসেছিল। নতুন করে পডকাস্টে তাঁর এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে আবারও তাঁকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনল—যদিও দাবিটির সত্যতা যাচাই এখনো বাকি।






