উচ্চক্ষমতার হাম পরীক্ষার অনুমোদন দিল না সিডিসি, পুনর্বিবেচনার আহ্বান চার রাজ্যের
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি উচ্চক্ষমতার একটি হাম পরীক্ষা পদ্ধতি যাচাই করে অনুমোদন দিতে অস্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটি কারণ হিসেবে ‘অন্যান্য প্রতিযোগী অগ্রাধিকার’-এর কথা বলেছে। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির চারটি রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন গত মে মাসে সিডিসিকে হাম পরীক্ষার একটি নতুন পদ্ধতি যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু দুই মাস অপেক্ষার পর সংস্থাটি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। ওয়েস্ট কোস্ট হেলথ অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে সিডিসির পরিচালক এরিকা শোয়ার্টজকে লেখা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, ওরেগন ও ওয়াশিংটনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সই করা চিঠিতে শোয়ার্টজকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত ও উচ্চ পরিমাণে হাম পরীক্ষা করা যায়—এমন একটি পদ্ধতি যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
চিঠিতে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাবের প্রস্তুতি হিসেবে অন্যান্য উচ্চ-অগ্রাধিকারের রোগজীবাণু পরীক্ষার প্রোটোকল তৈরিরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এমন পরীক্ষা পরীক্ষাগারগুলোর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা ‘নাটকীয়ভাবে শক্তিশালী’ করবে।
মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মুখপাত্র এমিলি হিলিয়ার্ড বলেছেন, সিডিসি হাম শনাক্তকরণ ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা শক্তিশালী করতে রাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করছে এবং সংস্থাটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ‘উদীয়মান প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে।
তবে মুখপাত্র এই প্রশ্নের উত্তর দেননি যে সিডিসির উচ্চক্ষমতার হাম পরীক্ষা যাচাই করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। ফলে রাজ্যগুলোর মূল দাবির বিষয়ে সংস্থার অবস্থান এখনো অস্পষ্ট।
বর্তমানে পরীক্ষাগারগুলোকে হামের জন্য কম পরিমাণের পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হয়, যেমন একক পিসিআর পরীক্ষা। কোভিড মহামারির সময় অধিকাংশ জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগার উচ্চক্ষমতার যন্ত্রপাতি কিনেছিল, যেমন হোলোজিক প্যান্থার ফিউশন—একটি পিসিআর প্ল্যাটফর্ম, যা আট ঘণ্টায় ৫০০টি পর্যন্ত পরীক্ষা প্রক্রিয়া করতে পারে।
কিন্তু হাম নির্ণয়ের জন্য সিডিসি-যাচাইকৃত কোনো উচ্চক্ষমতার পরীক্ষা এখনো নেই। গত বছর পশ্চিম টেক্সাসে হামের প্রাদুর্ভাবের সময় টেক্সাসের রাজ্য পরীক্ষাগারগুলো এমন একটি পরীক্ষা তৈরি করেছিল, কিন্তু তারা সেই প্রোটোকল বিতরণ বা প্রকাশ করেনি।
জাতীয় ও অলাভজনক রেফারেন্স পরীক্ষাগার এআরইউপি ল্যাবরেটরিজ তাদের হাম পরীক্ষা পদ্ধতি ডিসেম্বরে জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশ করেছে। সিডিসি এই বা অন্য কোনো প্রোটোকল যাচাই করলে অন্যান্য জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগারগুলো সেই পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা চালাতে পারবে।
ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজির সহকারী অধ্যাপক ও এআরইউপির ভাইরোলজির মেডিক্যাল পরিচালক বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি বলেছেন, উচ্চক্ষমতার পরীক্ষা একসঙ্গে অনেক নমুনা প্রক্রিয়া করতে পারে, আবার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে তা হাতে করার তুলনায় দ্রুত ও সহজও হয়, যা নমনীয়তা বাড়ায়।
ব্র্যাডলির মতে, দ্রুত ছড়ানো প্রাদুর্ভাবে সময়ই সবচেয়ে জরুরি। একজন হাম রোগী টিকা না নেওয়া ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন এবং ভাইরাসটি বাতাসে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। দ্রুত পরীক্ষা হলে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আলাদা করা, সংস্পর্শে আসাদের খোঁজ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা দিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ সহজ হয়।
বর্তমানে হামের জন্য বাণিজ্যিকভাবে কোনো পরীক্ষা পাওয়া যায় না; পরীক্ষাগারগুলো নিজেরাই পরীক্ষা তৈরি করে। এই পদ্ধতি তৈরি ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া প্রকাশ করা পরীক্ষাগারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিজে নিজে সেই বৈজ্ঞানিক কাজ গুছিয়ে করা অনেক পরীক্ষাগারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
পশ্চিম উপকূলের কর্মকর্তারা চিঠিতে বলেছেন, সিডিসি টেক্সাস ও এআরইউপির পরীক্ষা নিয়ে গবেষণা শেষ করেছে বলে জানা গেছে, কিন্তু সেগুলো পূর্ণ যাচাই বা বিস্তৃত তুলনা ছিল না। তাঁরা প্যান্থার ফিউশনে হাম নির্ণয়ের পরীক্ষা তৈরি করে প্রোটোকলটি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রস্তুত পরীক্ষা ছাড়া তাদের অঞ্চলে বড় প্রাদুর্ভাব হলে পরীক্ষা বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে, যা রোগীর সেবা ও জনস্বাস্থ্য তদন্তকে ব্যাহত করবে।






