বিবিসির বিরুদ্ধে মামলায় জবানবন্দি দিতে ট্রাম্পকে নির্দেশ, নইলে মামলা খারিজের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিবিসির বিরুদ্ধে করা তার ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলায় তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে এবং ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে জবানবন্দি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ না মানলে মামলা খারিজসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত বিবিসির প্যানোরামা প্রামাণ্যচিত্র, যেখানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল দাঙ্গার আগে এক সমাবেশে ট্রাম্পের বক্তব্যের অংশ জোড়া দিয়ে সম্প্রচার করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি ফ্লোরিডায় সহজে দেখা যেত না, তবু ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, ফ্লোরিডার বাণিজ্য আইনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানিতে ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক লেট ট্রাম্পের আইনজীবীদের সেই আবেদনও নাকচ করেন, যাতে সাত ঘণ্টার জবানবন্দি ভিডিও করা ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভিডিওটি শুধু মামলার আইনজীবীদের কাছেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
বিচারক বিবিসির আইনজীবীদের যুক্তির সঙ্গে একমত হন যে, ১৮ ডিসেম্বরের তথ্য হস্তান্তরের সময়সীমার আগে ট্রাম্পের পক্ষ প্রাসঙ্গিক অভ্যন্তরীণ নথি যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করেনি। বিবিসির আইনজীবী চার্লস টোবিন মিয়ামির আদালতে বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ একপক্ষীয়—তারা সারবস্তু আছে এমন কিছুই দেয়নি।
টোবিন বলেন, ট্রাম্পের পক্ষ যেসব নথি দিয়েছে, তার বেশির ভাগই হয় ইন্টারনেট থেকে নেওয়া, নয়তো বিবিসির নিজেরই দেওয়া। জবাবে বিচারক লেট ট্রাম্পের ফ্লোরিডাভিত্তিক আইনজীবী আলেহান্দ্রো ব্রিতোকে বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান হয়েছে—এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন; আদালত সন্তুষ্ট নয় যে কেউ যথাযথভাবে কাজটি করছে।
বিচারক বাদীপক্ষকে প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিতে ৩০ দিন সময় দেন। তিনি স্বীকার করেন, তথ্য হস্তান্তর প্রক্রিয়া দুই পক্ষের জন্যই বোঝা হতে পারে, তবে তা না করলে মামলা পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে খারিজসহ শাস্তি হতে পারে। তিনি বলেন, অর্থবহভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ।
এর আগে নির্ধারিত ১৬ অক্টোবরের জবানবন্দির তারিখ ট্রাম্পের আইনজীবীরা জাতীয় গুরুত্বের অন্য কাজের কথা বলে বাতিল করেছিলেন। বিবিসি উল্লেখ করে, ওই দিন ট্রাম্প আসলে জর্জিয়ায় প্রচারণায় ছিলেন। টোবিন একে ট্রাম্প শিবিরের পাঠানো ভুয়া খবর বলে মন্তব্য করেন। ব্রিতো পাল্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রতিদিন অসংখ্য কাজে যুক্ত থাকেন, যার অনেক কিছুই বিবিসির আইনজীবীদের জানা নেই।
লেট বলেন, তিনি মামলার নির্ধারিত সময়সূচি মানতে বাধ্য, তবে জেলা বিচারক জেফ্রি টি কুন্টজ সেই সময়সীমা বাড়াতে পারেন। টোবিন বলেন, কুন্টজ সময়সূচি বদলালে বিবিসি জবানবন্দির তারিখ পেছাতে রাজি আছে। লেট আবারও হুঁশিয়ারি দেন, নির্দেশ না মানলে খারিজসহ শাস্তি হতে পারে।
বুধবার দাখিল করা এক নথিতে ট্রাম্পের পক্ষ জানিয়েছে, তিনি জানুয়ারির দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে জবানবন্দি দিতে রাজি আছেন। শুনানিতে লেট ট্রাম্পের ফ্লোরিডার ক্লাব মার-এ-লাগোর বিরুদ্ধে বিবিসির সমন জারির অনুমতিও দেন, যদিও ট্রাম্পের আইনজীবী আপত্তি করে বলেন, ক্লাবটি প্রেসিডেন্টের থেকে আলাদা ব্যবসা।
ব্রিতো যুক্তি দেন, প্রেসিডেন্ট ক্লাবটি পরিচালনা করেন না; তার পেশা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া। টোবিন তীব্রভাবে দ্বিমত করে বলেন, মার-এ-লাগো যে এই প্রেসিডেন্টের সুনামের সঙ্গে জড়িত নয়, তা বলা বাস্তবতাকে অস্বীকার করা—সেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিশ্বনেতাদের আতিথ্য দেন।
রায়ে বিচারক বলেন, ক্লাবটি তথ্য হস্তান্তরের আওতায় পড়ে, কারণ তা ট্রাম্পের পেশার সঙ্গে জড়িত এবং পেশাগত সুনামে কথিত ক্ষতি সেখানে তার ব্যবসা পরিচালনাতেই প্রতিফলিত হতে পারে। টোবিনের ভাষায়, দিনের শিক্ষা হলো—কোনো বাদীই আইনের ঊর্ধ্বে নন, আদালতের নির্দেশের ঊর্ধ্বেও নন।






