…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

কানসাসে সিনেট বিতর্কে ট্রাম্প নিয়েই ফাটল: মার্শাল বললেন প্রেসিডেন্ট সব সময় ঠিক নন, বাইডেনের সীমান্ত নীতিকে ‘বিপর্যয়’ বললেন হ্যামিল্টন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনের বিতর্কে বুধবার রাতে মুখোমুখি হয়েছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল এবং তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। এক ঘণ্টার এই উত্তপ্ত বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অভিবাসন, ইরান, ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দুই প্রার্থীর ব্যক্তিগত বিতর্ক — প্রায় সব বড় বিষয়ই উঠে এসেছে।

নির্বাচনের দিনের দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ের গুরুত্ব অনেক। মার্শাল দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছেন, আর দীর্ঘদিনের পাদরি হ্যামিল্টন চাইছেন ১৯৩২ সালের পর কানসাস থেকে প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হতে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের টানাটানির মধ্যে এই আসনটি জাতীয় পর্যায়েও বাড়তি নজর কেড়েছে, আর চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প নিজে কানসাসে এসে মার্শালের পক্ষে প্রচার চালিয়ে গেছেন।

বিতর্কের শুরুতেই দুই প্রার্থীকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়। মার্শালকে প্রশ্ন করা হয় নিউইয়র্ক টাইমসের এক পর্যালোচনা নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে তাঁর সাবেক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বকেয়া বিলের জন্য ৭০০-র বেশি রোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। জবাবে মার্শাল বলেন, তাঁরা প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলারের দাতব্য সেবা দিয়েছেন, কিন্তু তাঁদের একটি ব্যবসাও চালাতে হয়েছে — ৩০০ কর্মী, বন্ধকের কিস্তি আর বিদ্যুৎ বিল সবই ছিল।

অন্যদিকে হ্যামিল্টনকে প্রশ্ন করা হয় তাঁর গির্জার গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের এক স্বেচ্ছাসেবককে ঘিরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামলানো নিয়ে। হ্যামিল্টন স্বীকার করেন, প্রাথমিক তদন্তের পর ওই ব্যক্তি যেন ক্যাম্পে ফিরে না আসেন, তা নিশ্চিত করা তাঁর উচিত ছিল। তিনি বলেন, তাঁর উচিত ছিল খোঁজ নেওয়া যে ওই ব্যক্তি ফিরে যাচ্ছেন না — সেটা তাঁর ভুল ছিল।

এরপর বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন ট্রাম্প নিজেই। সঞ্চালকেরা মার্শালের পক্ষে ট্রাম্পের প্রচারসভার ফুটেজ দেখান, যেখানে প্রেসিডেন্ট জনতাকে বলেছিলেন, এই নির্বাচনে ভোটাররা যেন মনে করেন তিনিই ব্যালটে আছেন। মার্শালকে প্রশ্ন করা হয়, ট্রাম্পের সমর্থন মানেই কি কানসাসের মানুষ ধরে নেবে যে তিনি প্রেসিডেন্টের কর্মসূচির প্রতিটি অংশকে সমর্থন করবেন। মার্শালের জবাব ছিল স্পষ্ট — না। তিনি বলেন, একাধিকবার তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত করেছেন।

সুনির্দিষ্ট উদাহরণ চাওয়া হলে মার্শাল দক্ষিণ-পশ্চিম কানসাসে সাম্প্রতিক অভিবাসন অভিযান এবং গরুর মাংস আমদানি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। হালকা চালে তিনি বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিমত হলেও স্ত্রীই সব সময় ঠিক থাকেন, আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় ঠিক নন। তবু তিনি ট্রাম্পের ভোটারদের তাঁর পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানান, এই যুক্তিতে যে হ্যামিল্টন নির্বাচিত হলে তা ডেমোক্র্যাটদের সিনেট দখলে সাহায্য করতে পারে।

বিতর্কের এক পর্যায়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্রশ্নে অপ্রত্যাশিতভাবে একমত হন। সঞ্চালক দুজনকেই জিজ্ঞেস করেন, লিঙ্গ কয়টি। মার্শাল বলেন, দুটি — ছেলে আর মেয়ে; তিনি নিজে ৫ হাজার শিশুর জন্মে সহায়তা করেছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক ছেলে আর অর্ধেক মেয়ে। হ্যামিল্টনও বলেন, লিঙ্গ দুটি — পুরুষ ও নারী।

সেখান থেকে আলোচনা যায় নারীদের খেলায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে। হ্যামিল্টন বলেন, ক্রীড়া যোগ্যতার সিদ্ধান্ত সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে নেওয়া উচিত, তবে জৈবিকভাবে পুরুষদের মেয়েদের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করা উচিত কি না, সে বিষয়ে তিনি দ্বিধাহীন — তাঁর ১২ বছর বয়সী নাতনি আছে, তিনি চান না জৈবিকভাবে পুরুষ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে খেলে তাঁকে আঘাত করুক; এটা ন্যায্য লড়াই নয়। মার্শাল বলেন, হাই স্কুল পর্যায়ে ছেলেদের ছেলেদের খেলায় আর মেয়েদের মেয়েদের খেলায় থাকা উচিত, আর জাতীয় ডেমোক্র্যাটদের ‘ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ’ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পরে হ্যামিল্টন পাল্টা অভিযোগ করেন, মার্শাল এই ইস্যু ব্যবহার করে মানুষকে হেনস্তা করছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই প্রার্থীর অবস্থান ছিল দুই মেরুতে। হ্যামিল্টন এআইয়ের ওপর আরও বেশি ফেডারেল নজরদারির পক্ষে বলেন এবং প্রযুক্তিটিকে পারমাণবিক শক্তি ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশের সঙ্গে তুলনা করেন; তাঁর যুক্তি, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মতো এআইয়ের জন্যও একটি কাঠামো দরকার। তবে সঞ্চালক সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, কোন নিয়মগুলোকে তিনি সমর্থন করবেন, তা এখনো তাঁর জানা নেই — বিশেষজ্ঞরাও এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য বিপদ বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি এআইকে মানবজাতির জন্য সম্ভাব্য অস্তিত্বের হুমকি বলেও বর্ণনা করেন।

মার্শাল অন্যদিকে ‘হালকা ছোঁয়ার’ পদ্ধতির পক্ষে বলেন, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা, শিশু সুরক্ষা ও গোপনীয়তায় জোর থাকবে; আর এআই অগ্রগতির জন্য এক মাপের বৈশ্বিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন তিনি। দুই প্রার্থীর এই অবস্থানই দেখিয়ে দেয়, নতুন প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের বিভাজন কতটা গভীর।

বিতর্কের শেষ দিকে হ্যামিল্টন নিজেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। সঞ্চালক তাঁর ‘মাঝখান থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার’ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বাইডেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও প্রতিনিধি শারিস ডেভিডসসহ ডেমোক্র্যাটদের তাঁর অতীত অনুদানের কথা উল্লেখ করে জানতে চান, তিনি কোন প্রগতিশীল নীতির বিরোধিতা করেন। হ্যামিল্টন জবাবে বলেন, সীমান্ত নিয়ে বাইডেনের নীতিগুলো ছিল বিপর্যয়; তিনি শক্তিশালী ও নিরাপদ সীমান্তে বিশ্বাস করেন। তিনি আরও বলেন, তিনি সমাজতান্ত্রিক দলের পক্ষের মানুষ নন, তিনি মাঝখানে দাঁড়ানো মানুষ।

হ্যামিল্টন বিতর্কে আবারও বলেন, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেও তিনি সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারকে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হিসেবে সমর্থন করবেন না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন, ৩ নভেম্বর, কানসাসের ভোটাররাই ঠিক করবেন এই বিতর্কের কোন যুক্তি তাঁদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হলো — মার্শালের অভিজ্ঞতার দাবি, নাকি প্রায় এক শতাব্দী পর ইতিহাস বদলের হ্যামিল্টনের আহ্বান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা

ভোটার পরিচয়পত্র নিয়ে আগিলারের মন্তব্য এখন তাঁর বিরুদ্ধেই অস্ত্র: ক্যালিফোর্নিয়ায় জালিয়াতির মামলার পর চাপে ডেমোক্র্যাট নেতা

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটদের তৃতীয় শীর্ষ নেতা পিট আগিলার এখন নিজের রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতেই ভোটার পরিচয়পত্র নিয়ে করা মন্…

আমেরিকা

তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার দায়ে মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে ভোক্তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করার দায়ে মেটা প্ল্যাটফর্মসকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যকে ২৫ বিলিয…

আমেরিকা

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের পথে: আনন্দে প্রাণীপ্রেমীরা, জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় চালকেরা

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা গাড়ির যুগ শেষ হওয়ার পথে এগোচ্ছে শহর কর্তৃপক্ষ। সিটি কাউন্সিলে এই গাড়ি নিষিদ্ধের প্রস্তাব পাস হওয়ার প্রত্…

আমেরিকা

'বোকামিপূর্ণ কথা': ট্রাম্পের মন্তব্য পাত্তাই দিল না ফরাসিরা

ফ্রান্সে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও সহিংসতার ঘটনায় দেশটিতে যখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন এ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের লড়াই। ফরাসি ব…