‘দ্য গ্র্যাজুয়েট’ বানানো ছিল ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’, নিউ ইয়র্কার প্রবন্ধে জানালেন ডাস্টিন হফম্যান

অভিনেতা ডাস্টিন হফম্যান বলেছেন, ‘দ্য গ্র্যাজুয়েট’ ছবিটি বানানো তাঁর জন্য ছিল এক ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’। দ্য নিউ ইয়র্কারের জন্য লেখা সাম্প্রতিক এক প্রবন্ধে ৮৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা জানিয়েছেন, ছবিটি ‘শুরু থেকেই আমার সব নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল’।
এই ছবিই তাঁকে প্রথম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দিয়েছিল এবং তিনি বাফটা পুরস্কারও জিতেছিলেন। তবু শুটিংয়ের সেটে তিনি শুরু থেকেই অস্বস্তি ও নিজেকে অযোগ্য মনে করতেন।
হফম্যান লিখেছেন, ‘আমি এখানে, মাইক নিকোলসের মতো সেই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত পরিচালকের ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছি, অথচ মনে হচ্ছিল আমার এখানে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমার জীবন বদলে দেওয়া ছবিটি বানানো ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।’
শুরু থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল, এই চরিত্রের জন্য তিনি একদমই ভুল পছন্দ। এমনকি তিনি এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিতেও চাননি। ছবির ভিত্তি উপন্যাসটি পড়ার পর তাঁর কাছে ‘স্পষ্ট’ মনে হয়েছিল যে তিনি বেঞ্জামিনের জন্য একেবারেই মানানসই নন।
তিনি লিখেছেন, ‘একজন ট্র্যাক তারকা, সব বিষয়ে এ-পাওয়া ছাত্র, বিতর্ক দলের প্রধান—এ এক ধনী, সর্বোতভাবে আমেরিকান ছেলে, যার পদবি ব্র্যাডক। আমার মতো দেখতে একজনকে কেন চূড়ান্ত ওয়াস্প চরিত্রে নেওয়া হবে? এর কোনো মানেই হয় না।’
অভিজ্ঞতা খারাপ হওয়ার বড় কারণ ছিল পরিচালকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। হফম্যানের ভাষায়, নিকোলস ‘সবার প্রতিই খিটখিটে’ ছিলেন এবং সেটে ‘প্রায়ই মেজাজ খারাপ’ থাকত।
পরিচালকের এমন আচরণে হফম্যান প্রায়ই ভাবতেন, তিনি বুঝি যেকোনো মুহূর্তে চাকরি হারাবেন। ছবির সবচেয়ে পরিচিত কিছু দৃশ্য করতে গিয়ে তাঁর মনে হতো, তিনি জানেনই না তিনি কী করছেন।
হফম্যানের মনে হয়েছিল, পরিচালকের মধ্যে এক ধরনের ‘নিষ্ঠুরতা’ ছিল, যা মূলত তাঁর দিকেই নিবদ্ধ ছিল।
এর এক উদাহরণ তিনি দিয়েছেন। এক দৃশ্যে ক্যাথরিন রসকে তাঁকে চড় মারতে হয়েছিল, আর নিকোলস সেটি করিয়েছিলেন ২৭ বার। দৃশ্যটিতে বৃষ্টিতে ভিজে বেঞ্জামিন এলেইনের ঘরে ঢুকে জানায়, সে এক বয়স্ক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে; মুহূর্তের মধ্যে এলেইন বুঝতে পারে সেই নারী তার মা।
হফম্যান লিখেছেন, ‘মাইক বারবার ক্যাথরিনকে বলছিল, আরও জোরে মারো, আরও জোরে মারো। ক্যাথরিন ভয় পাচ্ছিল, আমাকে আঘাত লাগবে। আমি বলেছিলাম, আমি ঠিক আছি। শুধু আমার কানে মেরো না। দুর্ভাগ্যবশত, কয়েকবার সে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল। সেদিন শেষে আমি মাথা ঘুরে যাওয়া অনুভব করছিলাম, আর মাইক ছবিতে সেই চড়ের দৃশ্যটি ব্যবহারই করেনি।’
পরদিন তাঁকে পানির নিচের একটি দৃশ্য করতে হয়। তাতে তাঁর কান থেকে রক্ত ঝরতে থাকে, পরে দেখা যায় তাঁর কানের পর্দা ফেটে গেছে।
‘দ্য গ্র্যাজুয়েট’ ছবিতে হফম্যানের বেঞ্জামিন একজন সদ্য কলেজ পাস করা তরুণ, যে স্নাতকের পর জীবনের দিক খুঁজে পাচ্ছে না এবং বাবা-মায়ের এক বান্ধবী, এক বয়স্ক গৃহবধূর প্রলোভনে পড়ে। সেই নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অ্যান ব্যানক্রফট।
১৯৬৭ সালে মুক্তির পর ছবিটি সাতটি অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পায়, যার মধ্যে ছিল হফম্যানের সেরা অভিনেতা ও ব্যানক্রফটের সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন। শেষ পর্যন্ত নিকোলস সেরা পরিচালকের পুরস্কার জেতেন।
এত কষ্টের পরও ‘দ্য গ্র্যাজুয়েট’ হফম্যানের সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে ওঠে। ‘রেইন ম্যান’ তারকা হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতার ক্যারিয়ারে ছবিটি আজও এক মাইলফলক হয়ে আছে।




