চার্লি কার্কের মরদেহ নিয়ে ঠাট্টায় হেসে ক্ষমা চাইলেন দুই পডকাস্টার

মার্কিন পডকাস্ট উপস্থাপক জেনিফার ওয়েলচ ও অ্যাঞ্জি সুলিভান রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের মৃত্যু নিয়ে করা এক ঠাট্টায় হেসে ওঠার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবারের পর্বে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট পড়ে হাসছিলেন, যেখানে কার্কের মরদেহ উত্তোলনের কথা বলা হয়েছিল। শনিবার তাঁরা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়ে ক্ষমা চান।
ঘটনাটি ঘটে ওয়েলচের 'আইভ হ্যাড ইট' পডকাস্টের বৃহস্পতিবারের পর্বে। ওই পর্বে দুই উপস্থাপক ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা প্রতিক্রিয়া পড়ে শোনাচ্ছিলেন। বেশ কয়েকটি পোস্টে গর্ভপাত, টিকা ও এলজিবিটিকিউ নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে রক্ষণশীল অবস্থান নিয়ে ঠাট্টা করা হয়েছিল।
ওয়েলচ পড়ে শোনান, 'কেউ একজন পোস্ট করেছে, আমি পাত্তা দিই না তুমি ব্রহ্মচারী নাকি বিরত থাকছ। কাছের মানুষটিকে ধরো আর যা খুশি করো। গর্ভপাতের খরচ আমার।' পোস্টগুলো পড়তে পড়তে দুজনেই হাসছিলেন।
এরপর ওয়েলচ আরেকটি পোস্ট পড়েন, 'তুমি কল্পনাও করতে পারবে না আমরা কী কী সর্বনাম আবিষ্কার করতে যাচ্ছি। তুমি সেগুলো উচ্চারণও করতে পারবে না।' উপস্থাপক পোস্টগুলোর লেখকদের 'দেশপ্রেমিক' বলে প্রশংসা করেন এবং বলেন, 'এই মানুষগুলো আমাকে দেশপ্রেমিক করে তোলে।'
এরপর ওয়েলচ আরেকটি পোস্ট পড়ে হেসে ওঠেন, যেখানে লেখা ছিল, 'আমরা চার্লি কার্ককে কবর থেকে তুলে আবারও একই কাজ করছি।' পোস্টটি পড়ার পর দুই উপস্থাপক 'কোনো মন্তব্য নয়' বলে জানান।
চার্লি কার্ক টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর উটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর 'আমেরিকান কামব্যাক ট্যুর' অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় গলায় গুলি লেগে তিনি নিহত হন।
শনিবার দুই উপস্থাপক ইনস্টাগ্রামে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, 'বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে আমরা চার্লি কার্ক নিয়ে একটি ঠাট্টায় হেসেছি। এটি একটি সংবেদনহীন ঠাট্টা ছিল, আমাদের হাসা উচিত হয়নি। আমরা অনুতপ্ত, আমরা ক্ষমা চাইছি। আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই হোক, বন্দুক সহিংসতা নিয়ে মজার কিছু নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তিসংগত বন্দুক নিরাপত্তা সংস্কারকে সমর্থন করে আসছি।'
ক্ষমা চেয়ে দেওয়া বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, 'সেই লক্ষ্যে আমরা এভরিটাউন ফর গান সেফটিতে অনুদান দিয়েছি, যারা আমেরিকার সবচেয়ে বড় বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ সংস্থা। আমরা সব আমেরিকানের নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাব।'
বৃহস্পতিবারের পর্বে ঠাট্টাটি পড়ার পর উপস্থাপকরা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই দাবি করেন যে কার্ক হত্যায় অভিযুক্ত টাইলার রবিনসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। সুলিভান বলেন, 'তাকে গুলি করেছে এমন একজন, যে ছিল সুপার মাগা।' ওয়েলচ বলেন, 'তাকে গুলি করেছে একজন মাগা ব্যক্তি। শ্বেতাঙ্গ, শ্বেতাঙ্গ মাগা পরিবার।'
তবে উটাহের ভোটার নিবন্ধন রেকর্ড অনুযায়ী, রবিনসন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং গত দুটি সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেননি। রবিনসন ও তাঁর পরিবার উটাহের ওয়াশিংটন কাউন্টিতে থাকতেন, যেখানে ৭৫ শতাংশ বাসিন্দা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন।
এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন সমালোচক উপস্থাপকদের সমালোচনা করেন। রক্ষণশীল কর্মী রাইলি গেইনস এক্সে লেখেন, 'তাঁদের ঘৃণা ও রক্তপিপাসায়, এই ভূতেরা নিজেদের সত্যিই আপনার চেয়ে নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ মনে করে।'
প্রভাবশালী কলিন রাগ পোস্ট করেন, 'তারা আপনার মৃত্যু উদযাপন করবে, অট্টহাসিতে ফেটে পড়বে, আর তবুও নিজেদের "ভালো মানুষ" বলে পুরোপুরি বিশ্বাস করবে।' মিডিয়া রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি ডেভিড বোজেল বলেন, 'ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ যদি এই নোংরা আবর্জনাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া বন্ধ করত, তাহলে নোংরা আবর্জনা ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত।'
ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ কাইভান শ্রফও ওয়েলচ ও সুলিভানের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'ডেমোক্র্যাট হিসেবে জেনিফার ওয়েলচ ও অ্যাঞ্জি সুলিভানকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচনা করা দেখে হতাশ লাগে, যখন তাঁদের ব্র্যান্ডের বড় অংশই ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কথা বলা।'
শ্রফ আরও বলেন, 'ডেমোক্র্যাটরা যখন সবে ঐতিহাসিক জয় ও বিশাল ব্লু ওয়েভ পেয়েছে, তখন তাঁরা এমন আপত্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে হঠাৎ গল্পটিকে নিজেদের দিকে নিয়ে গেলেন। তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের সাহায্য করছেন না। তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের অর্জিত মনোযোগ ছিনতাই করছেন।'
ওয়েলচ ও সুলিভান মন্তব্যের বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটালের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।




