মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় স্পষ্ট হচ্ছে: হাউসে অন্তত ২৫৩, সিনেটে ৫৪ আসন
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন দিন পর ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের চিত্র আরও স্পষ্ট হচ্ছে। দলটি প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস) অন্তত ২৫৩টি এবং সিনেটে অন্তত ৫৪টি আসন পেয়েছে, যা ওবামা প্রশাসনের পর তাদের সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তবে ডজনখানেক হাউস আসন এবং আলাস্কা ও মিসিসিপির দুটি সিনেট আসনের ফল এখনো খুব কাছাকাছি থাকায় চূড়ান্ত ঘোষণা বাকি রয়েছে।
গভীর রক্ষণশীল রাজ্য মিসিসিপিতে অপ্রত্যাশিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ডেমোক্র্যাটদের দেশজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণে, সাফল্যের বড় প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কোলম জিতলে রাজ্যটি ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো একজন ডেমোক্র্যাটকে সিনেটে পাঠাবে এবং তিনি হবেন পুনর্গঠন যুগের পর রাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর।
বৃহস্পতিবার রাতে কোলম রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। হাইড-স্মিথের আইনজীবীরা মিসিসিপির কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়ে অস্থায়ী (প্রভিশনাল) ব্যালট সংরক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছেন, যা সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোলমের প্রচারশিবিরের এক আইনজীবীও নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে ওই অনুরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
এনএএসিপি জানিয়েছে, তারা মিসিসিপিতে আইনজীবী পাঠিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি ও জ্যাকসনের বাসিন্দা ডেরিক জনসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁর দল মিসিসিপিতে দিনরাত কাজ করছে, যাতে অস্থায়ী ব্যালট ব্যবহার করা ভোটারদের ভোট গণনা করা হয়।
আলাস্কায় বৃহস্পতিবার রাতে ডেমোক্র্যাট সাবেক প্রতিনিধি মেরি পেল্টোলা রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান এস. সুলিভানের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, পেল্টোলার এই এগিয়ে থাকা সম্ভবত ধরে থাকবে। তবে বাকি ডাক-ব্যালট গণনা করতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে এবং আসনটিতে ১৮ নভেম্বরের আগে র্যাংকড-চয়েস পদ্ধতিতে পুনর্গণনা প্রয়োজন হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা তাদের নির্বাচনী সাফল্য উদ্যাপন অব্যাহত রাখলেও রিপাবলিকানরা অর্ধশতাব্দী আগে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরের সময়ের পর থেকে তাদের সবচেয়ে খারাপ ফলের হিসাব মেলাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, তাঁর দলকে বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে কারণ তিনি ব্যালটে ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, ‘আমি থাকলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জিততাম!’
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউটার রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস পরাজয়ের দায় প্রেসিডেন্টের ওপর চাপিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে ভোটাররা অর্থনীতি নিয়ে ভাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্টের নীতি নিয়েই ছিল।’
রিপাবলিকানরা পরাজয়ের জন্য একে অপরকে ও প্রেসিডেন্টকে দোষারোপ করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার পরিকল্পনার খবর নাকচ করে দিয়েছেন। তবে এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গেছেন।
এদিকে ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি ক্যাথরিন এম. ক্লার্ক, যিনি হাউস ডেমোক্র্যাটদের দুই নম্বর নেতা, জানুয়ারিতে মেজরিটি লিডার হতে চলেছেন। তিনিই হবেন এই পদে অধিষ্ঠিত প্রথম নারী, যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যান্সি পেলোসি এর চেয়ে উচ্চতর পদ হাউস স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনপ্রিয় ভোটের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণের একটি ব্যবস্থায় যথেষ্ট রাজ্য যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে দলটি মিশিগান, নেভাদা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনসহ অন্তত চারটি রাজ্যে গভর্নরের দপ্তর ও রাজ্য আইনসভার দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে।
ন্যাশনাল পপুলার ভোট ইন্টারস্টেট কমপ্যাক্ট নামের ওই চুক্তিতে অংশ নেওয়া রাজ্যগুলো প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা তাদের সব ইলেক্টোরাল ভোট জাতীয় জনপ্রিয় ভোটে জয়ী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকেই দেবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোটের প্রতিনিধিত্বকারী রাজ্য এতে স্বাক্ষর করবে। এখন পর্যন্ত ১৮টি রাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া চুক্তিটি গ্রহণ করেছে, যাদের ভোট ২২২টি। সদ্য পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়া চারটি রাজ্যই যোগ দিলে দলটি ২৭০ ভোটের সীমা পার হয়ে যাবে।




