টেক্সাসে রিপাবলিকানদের আসন পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা ব্যর্থ করল লাতিনো ভোট

গত বছর রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত টেক্সাস আইনসভা বিতর্কিত মধ্যবর্তী আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কংগ্রেসের মানচিত্র নতুন করে আঁকে। লক্ষ্য ছিল রিপাবলিকানদের আরও পাঁচটি হাউস আসন এনে দেওয়া।
২০২৪ সালে হিসপ্যানিক ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তিশালী ফলাফলে উৎসাহিত হয়ে রিপাবলিকানরা দক্ষিণ টেক্সাসের প্রবল লাতিনো অধ্যুষিত রিও গ্রান্দে ভ্যালির চারটি জেলায় মনোযোগ দেয়।
কিন্তু মঙ্গলবার লাতিনো ভোট ট্রাম্পের কাছ থেকে সরে যায়। এবিসি নিউজের ভোটার জরিপ অনুযায়ী, এর পেছনে ছিল ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ।
রিপাবলিকানরা রিও গ্রান্দে ভ্যালির কোনো জেলাই দখল করতে পারেনি। চারটি জেলাতেই তারা দুই অঙ্কের ব্যবধানে হেরেছে এবং শেষ পর্যন্ত হাউসে একটি আসন নিট ক্ষতি হয়েছে।
হিসপ্যানিক ভোটাররা টেক্সাসের মোট যোগ্য ভোটারের ৩০ শতাংশের বেশি। রিও গ্রান্দে ভ্যালির চারটি কাউন্টিতে তাঁরা জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি, এমনটাই দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্যে।
এবিসি নিউজের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, রাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ভোট দেওয়া ৬৭ শতাংশ হিসপ্যানিক ভোটার মনে করেন, অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ অনেক দূর চলে গেছে। শ্বেতাঙ্গ সিনেট ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
সান আন্তোনিওর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন টেলর এবিসির স্থানীয় সহযোগী কেএসএটিকে বলেন, এই বিষয়টি রিও গ্রান্দে ভ্যালিতে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ টেক্সাসে, সান আন্তোনিওতে বসবাসকারী অনেকের পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কেউ আইসিইর অভিযানে ধরা পড়েছে। এটা ভোটের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।’
অর্থনীতি নিয়েও অসন্তোষ স্পষ্ট। এবিসি নিউজের ভোটার জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৮৩ শতাংশ হিসপ্যানিক ভোটার বলেছেন অর্থনীতি খুব একটা ভালো নয় বা খারাপ। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ৬৩ শতাংশ। আর সিনেট নির্বাচনে ভোট দেওয়া ৭৫ শতাংশ হিসপ্যানিক বলেছেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ করেছে। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ৫২ শতাংশ।
রিও গ্রান্দে ভ্যালিতে দেশের মধ্যে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি এমন এলাকাগুলোর কয়েকটি রয়েছে। লাতিনো রাজনৈতিক সংগঠন মি ফ্যামিলিয়া ভোটার নেতা হেক্টর ই. সানচেজ বারবা এবিসি নিউজকে বলেন, ভ্যালি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলোর কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা খুব স্পষ্ট যে, এই নীতিগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে মূলত শ্রমজীবী, বর্ণের মানুষের সম্প্রদায়ের ওপর।’
রিও গ্রান্দে ভ্যালির চারটি কাউন্টিতেই ২০২২ সালের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। হিডালগো কাউন্টিতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ, ক্যামেরন কাউন্টিতে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, উইলাসি কাউন্টিতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং স্টার কাউন্টিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে। রাজ্যে সামগ্রিকভাবে ২০২২ সালের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটরা দক্ষিণ টেক্সাসের দুটি প্রবল হিসপ্যানিক জেলা দখল করেছে, যেখানে ট্রাম্প আগে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জিতেছিলেন। আর নীল ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ডেমোক্র্যাটরা রাজ্যের সবকটি রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেয়েছে।
এবিসি নিউজের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, হিসপ্যানিক ভোটাররা ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকোকে ৬৮ শতাংশ ভোটে এবং ডেমোক্র্যাট গভর্নর প্রার্থী জিনা হিনোজোসাকে ৬৫ শতাংশ ভোটে সমর্থন করেছেন।
বারবা বলেন, তাঁরা জিতেছেন কারণ ‘তাঁদের নীতিগুলো শ্রমজীবী পরিবারগুলোর প্রতিফলন’ এবং ‘অন্তর্ভুক্তির প্রতিফলন’। তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ২০২৮ সালে রাজ্যটিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত করতে পারে।
বারবা বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না, ২০২৮ সালে যিনি প্রেসিডেন্ট হতে চান, তাঁকে লাতিনো সম্প্রদায়ের মধ্য দিয়ে আসতেই হবে।’



