ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস জয়ে বাড়তি মার্কিন সহায়তার আশা জেলেনস্কির, ইউরোপ চায় রাশিয়ার ওপর চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এতে কিয়েভের জন্য বাড়তি মার্কিন সহায়তা আসতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে নতুন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান হয়।
জেলেনস্কির এই মন্তব্য বুধবার এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতি ইউক্রেনের পক্ষে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি রিপাবলিকানদের প্রতিও কৃতজ্ঞ, কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনকে সমর্থন ও সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে খুব স্পষ্টভাবে কথা বলে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে গড়ার কথা বলে। ফলে আশা আছে, ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে এবং আমরা আরও সহায়তা পাব।’
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়তি মার্কিন সহায়তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জেডডিএফকে বলেন, ‘কংগ্রেস এখন যদি শক্তিশালী আর্থিক সহায়তা বা সামরিক সহায়তার কথা বলে, যেমনটা ইউরোপ আজ করছে ও দেখাচ্ছে, তাহলে তা ইতিবাচক হবে এবং পুতিনের ওপর প্রভাব ফেলবে।’
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসের এক বৈঠকে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ওয়াশিংটনের সহায়তার জন্য ‘অকৃতজ্ঞ’ বলেছিলেন; তার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েনের সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প রাশিয়ার পক্ষে যায় এমন কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার মধ্যে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির একটি চুক্তিও রয়েছে। গত মাসে ইউক্রেনকে সমর্থন করে কংগ্রেসে বিপুল ভোটে পাস হওয়া আইনের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তিনি মওকুফ করেছেন।
ইউক্রেন আরও অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে দেরি করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, তিনি আশা করেন নতুন কংগ্রেস ‘ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দেবে’। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে থাকলে আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী,’ এবং যৌথ চাপ মস্কোকে যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জার্মানিতে নেতারা এ নিয়ে বিভক্ত। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বুধবার সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় সত্ত্বেও ট্রাম্প গতিপথ বদলাবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ আছে। বার্লিনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘খোলাখুলি বললে, গত দুই বছর ধরে ট্রাম্প মূলত কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়েই শাসন করেছেন। এখনই বা তা ভিন্ন হবে কেন?’
তবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল ছিলেন তুলনামূলক আশাবাদী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের ‘খুব স্পষ্ট’ জয় ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে ‘নতুন উদ্যোগ শুরুর সুযোগ’ তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের আমলে কমিয়ে দেওয়া ইউক্রেন সহায়তা নিয়ে দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ‘আরও আলোচনা’ হবে বলেও তিনি ‘বেশ আশাবাদী’ বলে জানান।
ইউরোপের অন্য নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প আরও দুই বছর ক্ষমতায় থাকায় ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি দ্রুত বদলানোর সম্ভাবনা কম। অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিয়াতে মাইনল-রাইসিঙ্গার বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কানসাস বা আইওয়ার মানুষ কীভাবে ভোট দিল, তার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সে কারণেই আমরা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করছি।’


