কলোরাডোতে পুলিশকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় বাধ্য করার প্রস্তাব ভোটে নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা পুলিশ ও কৌঁসুলিদের ট্রাম্প প্রশাসনের গণবহিষ্কার কর্মসূচিতে সহায়তা করতে বাধ্য করার এক রক্ষণশীল উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবারের ভোটে ‘অ্যামেন্ডমেন্ট ৮১’ নামের প্রস্তাবটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৫৫ শতাংশ ভোট পায়নি।
প্রস্তাবটি পাস হলে কলোরাডোর আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হতো: সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছেন না বলে জানা গেলে, অথবা তাঁর আইনি অবস্থান অনির্ধারিত থাকলে, তা ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হতো।
প্রস্তাবে আরও বলা ছিল, হত্যা, হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে সম্ভাব্য অনথিভুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আইন প্রয়োগকারীদের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরকে (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সতর্ক করতে হবে।
প্রস্তাবের সমর্থকদের মধ্যে ছিল রক্ষণশীল অলাভজনক সংগঠন অ্যাডভান্স কলোরাডো। তাদের যুক্তি ছিল, অপরাধ করা অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের কিংবা বারবার অপরাধে জড়ানোদের দেশ থেকে সরিয়ে দিলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
সমালোচকরা প্রস্তাবটির নিন্দা করে বলেন, এতে অভিযোগকেই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে, অথচ অভিযোগ আর প্রমাণিত অপরাধ এক নয়।
কলোরাডো ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ার শাদ মুরিব বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়া আর দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক নয়, এবং আমাদের আইনে সেই পার্থক্যকে সম্মান করতে হবে।’
সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরে এমন প্রতিবেদন পাঠানো হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিচার পাওয়ার আগেই বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারতেন। নাগরিকত্বের অবস্থান যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং ঘটবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছিল।
মুরিব আরও বলেন, ‘প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো অধিকারকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পরিবারগুলোর ন্যায্য আচরণ পাওয়ার অধিকার আছে এমন মানুষদের ওপর আইসিইকে আরও ক্ষমতা না দিয়েও কলোরাডো অপরাধের জন্য মানুষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে।’
কলোরাডোর এই প্রত্যাখ্যান এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় আসনগুলোতে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে; ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি এবং চলমান অভিবাসন দমনসহ বিতর্কিত নীতিগুলো অনেক আমেরিকানকে বিমুখ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।




