নির্বাচনের রাতে হাসান পাইকারকে লাইভস্ট্রিমের সঞ্চালক করায় ডিএসএর বিরুদ্ধে এডিএলের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী সংগঠন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের রাতের লাইভস্ট্রিমের সঞ্চালক হিসেবে বিতর্কিত টুইচ স্ট্রিমার হাসান পাইকারকে বেছে নেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল)। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী জোনাথন গ্রিনব্ল্যাট ডিএসএর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সমর্থক ও ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ‘উঁচুতে তুলে ধরার’ অভিযোগ তুলেছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গ্রিনব্ল্যাট লেখেন, ‘ডিএসএ যাদের মধ্যে থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের রাতের লাইভস্ট্রিমের সঞ্চালক বেছে নিতে পারত, তাদের সবাইকে ছেড়ে তারা বেছে নিল হাসান পাইকারকে—যে ব্যক্তি গর্বের সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে এবং ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায়।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বিষয়টি ভেবে দেখুন। ডিএসএ এ ধরনের বক্তব্য থেকে নিজেকে দূরে রাখছে না; বরং সেগুলোকে উঁচুতে তুলে ধরছে।’
পোস্টে গ্রিনব্ল্যাট এডিএলের একটি নিবন্ধের লিংকও যুক্ত করেন, যেখানে পাইকারের সমালোচিত নানা বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এডিএলের মতে, এসব বক্তব্যের কোনো কোনোটিতে চিরাচরিত ইহুদিবিদ্বেষী ধারণা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আভাস রয়েছে। নিবন্ধে পাইকারের বিতর্কিত মন্তব্যগুলোর মধ্যে অর্থোডক্স ইহুদিদের সম্পর্কে তার একটি আপত্তিকর মন্তব্য এবং জায়নবাদকে ‘জাতিগত-ধর্মীয় আধিপত্যবাদী মূল্যবোধের ওপর গড়া নিশ্চিহ্নবাদী মতাদর্শ’ হিসেবে তার বর্ণনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
গ্রিনব্ল্যাটের মন্তব্যের জবাব পাইকারও কড়া ভাষায় দিয়েছেন। এক্সে দেওয়া জবাবে তিনি গ্রিনব্ল্যাটকে উদ্দেশ করে লেখেন, তার ‘সেরা বন্ধু’ এলন সারা দেশে আসন হারাতে ৪৫ কোটি ডলার খরচ করে ফেলেছেন। পাইকারের এই মন্তব্যের বিষয়ে এডিএল তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মঙ্গলবার নির্বাচনের দিন পাইকার ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টুইচে লাইভস্ট্রিম করেন এবং ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ভাষ্য দেন। তিনি নির্বাচনটিকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় জয়ের রাত হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, ‘ট্রাম্পবাদ মরছে, এর চেয়ে ভালো আর কিছু আমার পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়।’ একপর্যায়ে তিনি এমন এক বিশ্বের কল্পনার কথাও বলেন, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাগারে থাকবেন।
রিপাবলিকানদের পরাজয় নিয়েও মন্তব্য করেন পাইকার। তিনি বলেন, ‘এটি সম্ভবত রিপাবলিকান পার্টির জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। আমার মনে হয়, তাদের ঘৃণ্য এজেন্ডা, দুর্নীতি, মার্কিন অর্থনীতিতে তাদের অস্থিতিশীল প্রভাব এবং অন্তহীন যুদ্ধ ও এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত তাদেরই কামড় বসাচ্ছে।’
এই বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে ডিএসএ সমর্থিত বা অনুমোদিত একাধিক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পেনসিলভানিয়ায় ক্রিস রাব, কলোরাডোতে মেলাত কিরোস, মিশিগানে ডোনাভান ম্যাককিনি এবং নিউ ইয়র্কে ক্লেয়ার ভালদেজ ও দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাইকার ডিএসএ-সমর্থিত ও ডিএসএ-ঘনিষ্ঠ প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এবং তাদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। মিশিগানে এখন সিনেটর-নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়ার পর তিনি জাতীয়ভাবে পরিচিতি পান। এল-সায়েদের প্রার্থিতা সরাসরি ডিএসএ-সমর্থিত ছিল না; তবে সংগঠনটি বলেছে, এল-সায়েদ ‘মেডিকেয়ার ফর অল’-এর মতো ডিএসএ অগ্রাধিকারগুলো সমর্থন করেন।
তবে এল-সায়েদ নিজে পাইকারের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন বলে মনে করা হচ্ছে; নির্বাচনি মৌসুমের শেষ দিকে তিনি আর পাইকারের সঙ্গে কোনো প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেননি। পাইকারের বিরুদ্ধে সমালোচকদের অভিযোগ—তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যাতে মনে হয় ইসরায়েলের প্রতি ইহুদি আমেরিকানদের সমর্থন তাদের বিরুদ্ধেই ইহুদিবিদ্বেষী সহিংসতা ডেকে আনতে পারে—এর পরই এই দূরত্ব দেখা দেয়।




