হেগসেথকে সরানোর সম্ভাবনা নাকচ ট্রাম্পের, বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘দারুণ কাজ করছেন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁর পদেই থাকছেন। হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘দারুণ কাজ করছেন’।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা তাদের নতুন কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে পেন্টাগনপ্রধানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হেগসেথ রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্নের শূন্য হতে যাওয়া টেনেসি আসনে চোখ রাখছেন—এমন জল্পনা নিয়েও ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ওই রাজ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘খুবই জনপ্রিয়’ হবেন।
ব্ল্যাকবার্ন মঙ্গলবার টেনেসির গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাঁর সিনেট আসনে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। কে নিয়োগ পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ এ নিয়ে কথা বলার দিন নয়।’
রিপাবলিকানরা এখন ইরানের সঙ্গে আট মাসের যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি সামলাচ্ছেন। এই যুদ্ধে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের হতাশা বেড়েছে। যুদ্ধ ও তার অর্থনৈতিক পরিণতিকেই রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়টি আমাদের করতেই হতো, এবং আমরা তা করে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে এই যুদ্ধ সার্থক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
গত এপ্রিলে হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক ও বিপুল’ জয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরও মাসের পর মাস লড়াই চলেছে; এতে মার্কিন সেনারা নিহত ও আহত হয়েছেন, জ্বালানির খরচ বেড়েছে এবং ব্যয়বহুল মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র খরচ হয়েছে, যা প্রতিস্থাপন করতে বছর লেগে যেতে পারে।
হেগসেথের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত পেন্টাগনেই থাকতে চান। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বুধবার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘মন্ত্রী হেগসেথ পিছু হটবেন না; দলীয় পয়েন্ট অর্জন কিংবা যেখানে কোনো অনিয়ম নেই সেখানে ভুয়া তদন্ত চালাতে চাওয়া রাজনীতিকদের কাছে তিনি ভীত হবেন না।’ পার্নেল আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত বিভাগের নেতৃত্ব দিতে হেগসেথ ‘শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
এদিকে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশাসন যখন যুদ্ধ ও নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিণতি সামলাচ্ছে, তখন ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকানদের কাছে জানতে চেয়েছেন, হেগসেথ কাজে কেমন করছেন বলে তাঁরা মনে করেন।
ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, গত দুই বছর সীমিত নজরদারির মুখে থাকা প্রশাসনকে যাচাই করতে তাঁরা নতুন কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবং হেগসেথ যাচাই ও সম্ভাব্য অভিশংসনের বড় লক্ষ্য হতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা তাদের সাবপিনা ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরান যুদ্ধ, সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌকায় হামলার বৈধতা এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হেগসেথের ব্যাখ্যাহীন বরখাস্তের বিষয়ে পেন্টাগন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
তবে দলীয় নেতারা একই সঙ্গে ‘সাশ্রয়’কে তাঁদের কর্মসূচির সামনে রাখতে চাইছেন—ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি সেই অর্থনৈতিক উদ্বেগের ভারসাম্য রাখতে, যা তাঁদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় এনে দিতে সাহায্য করেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যাঁকে ২০২৮ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়, এই সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। বুধবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণেই। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে তা বলেছেন।’ তিনি আরও লেখেন, যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেওয়া যায়, কিন্তু নির্বাচনী পরিণতি উপেক্ষা করা উচিত নয়; আগামী ছয় বছর সিনেট হারানো সেই মূল্যের যোগ্য ছিল কি না, সে যুক্তি খোলাখুলিভাবে দিতে হবে।
এবিসি নিউজের ভোটার জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ভোটারদের ৩৪ শতাংশ বলেছেন ইরান যুদ্ধ তাঁদের ভোটের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল; ৪৯ শতাংশ একই কথা বলেছেন জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কে, আর ৫৫ শতাংশ বলেছেন সরকারি দুর্নীতি তাঁদের ভোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।




