‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণেই, সবাই তা জানে’: মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় হারের পর ভ্যান্সের স্পষ্ট স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার সকালে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন দিয়েছেন। তিনি এই হারের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকেই তুলে ধরেছেন।
‘এক্স’-এ দেওয়া বার্তায় ভ্যান্স বলেন, ‘কিন্তু আমরা কেন হেরেছি, তার আসল কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে তা বলেছেন। আপনি যদি যুক্তি দিতে চান যে এটি সার্থক ছিল, আগামী ছয় বছর সিনেট হারানো সার্থক ছিল, তাহলে তা-ই বলুন। বলুন এটি দেওয়ার মতো একটি মূল্য ছিল। একমত হোন বা না হোন, তা অন্তত সৎ যুক্তি। কিন্তু কেন আমরা হেরেছি, তা সবাই জানে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখান থেকে আমরা কোথায় যাব, তা নিয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা সেখান থেকেই শুরু হতে হবে।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাফল নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেও ভ্যান্স বুধবার ‘এক্স’-এ দীর্ঘ বিবৃতি দেওয়ার আগে পর্যন্ত নীরব ছিলেন। জানুয়ারি থেকে এই ফল ডেমোক্র্যাটদের হাতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছে।
ভ্যান্স যুক্তি দিয়েছেন, রিপাবলিকানরা সেই ভোটারদের হারিয়েছে, যাঁরা ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্স টিকিটকে ভোট দিয়েছিলেন। যুদ্ধ নিয়ে হতাশা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে অসন্তোষের কারণেই তাঁরা এবার মুখ ফিরিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো, যাঁরা ২০২৪ সালে ট্রাম্প/ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।’
মধ্যবর্তী নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য ছিল একটি বড় ধাক্কা। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত সাতটি সিনেট আসন ছিনিয়ে নিয়েছে এবং দুই ডজনের বেশি প্রতিনিধি পরিষদ আসনে জিতে কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ভ্যান্সের এই মন্তব্য যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে তাঁর আগের প্রকাশ্য মূল্যায়ন থেকে একটি বদল। এর আগে তিনি প্রশাসনের সামরিক অভিযানের কিছু দিক সমর্থন করলেও বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
যুদ্ধ শেষ করার পাশাপাশি ভ্যান্স যুক্তি দিয়েছেন, রিপাবলিকানদের জীবনযাত্রার খরচের দিকে নজর দিতে হবে, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ কর্মসূচিতে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে এবং ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বদলাতে’ হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসে অনেক ধোঁয়াশা তৈরি করা হবে। প্রত্যাশা করুন, অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক বলবেন আমাদের দুর্দশার সমাধান হলো সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি)।’ তিনি বলেন, প্রয়োগের ধরন বদলানোর ধারণায় তিনি খোলা মন রাখেন—যেমন অবৈধ শ্রম নিয়োগকারী ব্যবসাগুলোর দিকে বেশি নজর দেওয়া—তবে ‘যে-ই অ্যামনেস্টির পক্ষে জোর দিচ্ছে, সে আপনার সঙ্গে মিথ্যা বলছে।’
ভ্যান্স বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদীই রয়েছেন। নির্বাচনের ফলে ক্ষুব্ধ ভোটারদের তিনি সেই ক্ষোভকে নতুন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান: ‘যাঁরা ফলাফলে বিরক্ত, তাঁদের বিরক্ত হওয়াই উচিত। চলুন সেই রাগকে কাজে লাগিয়ে দেশকে বাঁচানোর কাজে ফিরি।’
ভ্যান্সের এই স্পষ্ট মূল্যায়ন এমন সময়ে এলো, যখন তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্টকে ২০২৮ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তিনি লড়বেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পরিকল্পনা ছিল। ফলে রিপাবলিকানদের এই ব্যাপক হার তাঁর হোয়াইট হাউসের আকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।




