মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকীতে তেহরানে বিক্ষোভ মিছিল, পোড়ানো হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা
ইরান বুধবার রাজধানী তেহরানে ব্যাপক সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী পালন করেছে। কর্মকর্তারা এই উপলক্ষে সাম্প্রতিক নির্বাচন ও যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘পরাজয়ের’ কথা বলেছেন।
১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানি শিক্ষার্থীরা তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে পড়ে ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিককে জিম্মি করে। তাঁরা ৪৪৪ দিন জিম্মি ছিলেন। সেই সংকট তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ছেদকে স্থায়ী করে, এবং তার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
এবারের বার্ষিকী এমন এক পটভূমিতে এলো, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। সেই যুদ্ধে ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়।
হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মধ্য তেহরানে মিছিল করেন। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পোড়ান এবং ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।
মিছিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতিকৃতি ও ব্যঙ্গচিত্রও বহন করা হয়। এর একটিতে ট্রাম্পকে হিংস্র কুকুর হিসেবে দেখানো হয়, যাকে শিকল দিয়ে ধরে রেখেছেন নেতানিয়াহু।
তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি জনতার উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘চূড়ান্ত পরাজয়ের’ মুখোমুখি হয়েছে। তিনি মঙ্গলবারের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকেও এর মধ্যে ধরেন, যে নির্বাচনকে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রতি প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাকানি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা ইরানের ‘দৃঢ়তা ও শক্তির’ ফল।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেহি ‘এক্স’-এ দেওয়া বার্তায় একই সুরে বলেন, ‘ট্রাম্প যুদ্ধেও ব্যর্থ হয়েছেন, রাজনীতিতেও ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা অবশ্যই তাঁকে আরও পরাজয় উপহার দেব।’



