ফ্রান্সে কৌশলগত ডিজেল মজুত ছাড়ের পর তা আর পূরণ করতে হবে না পরিবেশকদের
ফ্রান্সে জ্বালানি পরিবেশকেরা দাম কমাতে ছাড়া কৌশলগত ডিজেল মজুতের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। তবে পরে সেই মজুত তাঁদের আর পূরণ করতে হবে না। দুজন পরিবেশক এবং ফরাসি পেট্রোলিয়াম শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন উফিপ-ইএমের কাছ থেকে পলিটিকো এ তথ্য জানতে পেরেছে।
দাম কমাতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু গত ৭ অক্টোবর এই মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
লেকর্নু ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১ নভেম্বর থেকে কৌশলগত মজুত থেকে এক কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়া হবে।
এই ছাড়ের ফলে পরিবেশকেরা মজুত গড়ে তোলার সময়কার গড় দামে, অর্থাৎ লিটারপ্রতি প্রায় ২৮ ইউরো সেন্ট দরে ডিজেল কিনতে পারবেন। বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম এই দামে বিক্রি হলে পাম্পে লিটারপ্রতি ১২ থেকে ১৮ সেন্ট পর্যন্ত স্বস্তি মিলতে পারে। এই সিদ্ধান্তের প্রথম আইনি ভিত্তি শনিবার প্রকাশিত একটি ডিক্রির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।
লেকর্নু অবশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘পরিবেশকদের এই মজুত পূরণ করতে এক বছর পর্যন্ত সময় থাকবে’। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বহু আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত মজুত পূরণ না করার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।
এই বাধ্যবাধকতা নিয়ে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ ছিল। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন উত্তেজনাপূর্ণ থাকলে এবং বাজারদর বেশি থাকলে পরিবেশকদের চড়া দামে সেই মজুত কিনে ফেরত দিতে হতো। এর ফলে পাম্পে দামের ওপর আবার চাপ পড়ত।
এ ছাড়া ডিজেলের ব্যবহার বছর বছর কমছে, কারণ ফরাসিরা ব্যয় সংকোচন করছেন এবং বৈদ্যুতিক বা পেট্রোলচালিত গাড়ির দিকে আরও বেশি ঝুঁকছেন। এ বছর এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে, ফলে সরকার ও খাতসংশ্লিষ্টদের চোখে এই মজুত পূরণের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।
উফিপ-ইএমের সভাপতি ফিলিপ কাসবাস বলেন, ‘দুই-তিন বছরে যা ঘটত, আমরা সেটাই আগাম করে ফেলছি।’
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই এক কোটি ব্যারেল কৌশলগত ডিজেল মজুতের এক-পঞ্চমাংশ। পুরো মজুত দিয়ে দেশের তিন মাসের ব্যবহার মেটানোর কথা।
মজুত পূরণ না করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে জ্বালানি বিক্রেতাদের মজুত বাধ্যবাধকতা বদলে দেওয়া একটি ডিক্রির মাধ্যমে। অন্য একজন পরিবেশক বলেন, বিষয়টি ‘প্রক্রিয়াধীন’; ডিক্রি প্রকাশের আগ পর্যন্ত তিনি শর্তসাপেক্ষ ভাষাই ব্যবহার করতে চান। তাঁর ভাষায়, এটি ‘সম্ভবত সবচেয়ে ভালো সমাধান’, কারণ লিটারপ্রতি ২৮ সেন্ট দরে মজুত পূরণ করা খুবই কঠিন হতো।
ওই পরিবেশক আরও বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি স্বাধীনতার জন্য এটি খুব বেশি বিপজ্জনক বলে মনে হচ্ছে না।’ মন্তব্য চাওয়া হলেও মাতিনিওঁ (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।



