জাতিসংঘের মহাসচিব পদে অরবানকে চায় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা, দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে জাতিসংঘের মহাসচিব পদের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে কথা বলছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরবান আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের যৌথ প্রার্থী হতে পারেন। তিনটি দেশেরই সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন করছে।
অরবান গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতা হারান। তখন পেতের মাগিয়ারের তিসজা পার্টি তাঁকে পরাজিত করে; তার আগে তিনি ১৬ বছর ধরে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দেশ শাসন করেছেন।
তাঁর কট্টর ডানপন্থী, তীব্র অভিবাসনবিরোধী ও ইউরোসংশয়বাদী নীতিমালা এবং হাঙ্গেরিতে আইনের শাসনের পশ্চাদপসরণ পশ্চিমা মিত্রদের, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। তা সত্ত্বেও অরবান ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
নির্বাচনের পর থেকে হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষ অরবানের সাবেক সরকারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে। দুজন সাবেক মন্ত্রী ও হাঙ্গেরির জাতীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ এসব মামলায় অরবানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ধারণাটি প্রথমে পাগলামি মনে হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আগের আলোচনা থেকে বোঝা যায় রাশিয়া ও চীনও এটিকে সমর্থন করে। লক্ষ্য হলো অরবানকে তিন দেশের যৌথ প্রার্থী করা।
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য একটি দেশের কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন যদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একই জিনিস চায়, তারা সাধারণত সেটি পেয়েই যায়।’ বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর।
হোয়াইট হাউস, মস্কো ও বেইজিং এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। ইউরোনিউজ অরবানের মুখপাত্রের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে, কিন্তু এখনও কোনো জবাব পায়নি। মুখপাত্র এর আগে অরবানের উপ-মহাসচিব পদে প্রার্থিতা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
মে মাসে ভিস্কোয়ার নামের অনুসন্ধানী নিউজলেটার জানিয়েছিল, জাতিসংঘের একটি পদ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ এই পদের সঙ্গে কূটনৈতিক দায়মুক্তি যুক্ত থাকে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অনুযায়ী, অরবান তখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যখন তাঁর বিজয় নিশ্চিত হবে — এমন একটি পরিস্থিতি এখন অসম্ভাব্য মনে হচ্ছে। একজন প্রার্থীকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয়টির সমর্থন পেতে হয়, আর পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একজন মনোনয়নে ভেটো দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও স্থায়ী সদস্য।



