শীতের সরবরাহ নিয়ে শঙ্কায় ইউরোপে গ্যাসের দাম চার বছরের সর্বোচ্চে

ইউরোপে পাইকারি গ্যাসের দাম সোমবার প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৯৭ ইউরোতে (৮১ পাউন্ড) পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ স্তর। মহাদেশজুড়ে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা উত্তাপের চাহিদা বাড়ার হিসাব দামে ধরেছেন।
যুক্তরাজ্যের এক মাসের অগ্রিম চুক্তির দামও ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ২৪০ পেন্স হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সময়কার পর এটিই সর্বোচ্চ স্তর।
দাম বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শঙ্কা বেড়েছে।
ওই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে শুক্রবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড সোমবার প্রায় ২ শতাংশ কমলেও ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের (৮৫ পাউন্ড) ওপরে রয়েছে।
শীতের মুখে ইউরোপে মজুত গ্যাসের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে; এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে মজুত এখন সর্বনিম্ন স্তরে। কাতার থেকে রপ্তানি কমে যাওয়া এবং গ্রীষ্মে শীতলীকরণে ব্যবহার বেড়ে যাওয়াই এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপের মজুত ভান্ডার এখন প্রায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণ, যেখানে মৌসুমি গড় প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি।
ব্রিটেনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রকরা সতর্ক করেছেন, স্থিতিশীল সরবরাহের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকায় এই শীতে দেশটিকে ইউরোপের সর্বোচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কয়েকটির একটি বহন করতে হতে পারে। উত্তর সাগরের নিজস্ব উৎপাদনের ওপর দশকের পর দশক নির্ভর করার পর যুক্তরাজ্যের গ্যাস মজুত মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ছোটগুলোর একটি।
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে, আগস্টে শেষ হওয়া বছরে যুক্তরাজ্য বিদ্যুৎ আমদানিতে রেকর্ড ৪০০ কোটি পাউন্ড খরচ করেছে, যার অর্ধেক গেছে ফ্রান্স থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পেছনে। একই সময়ে গ্যাসকেন্দ্র চালু রাখতে প্রায় রেকর্ড অর্থ দেওয়া হয়েছে, আবার গ্রিডের সীমাবদ্ধতায় বায়ু ও সৌর খামার বন্ধ রাখার জন্যও অর্থ দিতে হয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ পরিবারগুলোর জ্বালানি বিল আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে — জানুয়ারিতে তা ১৬ শতাংশ বেড়ে সাধারণ বার্ষিক বিল প্রায় ২ হাজার পাউন্ডের সমতুল্য হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
তেলের দাম কমায় সোমবার ইউরোপের শেয়ারবাজার সামান্য বেড়েছে। মহাদেশের বড় কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক সকালে ০.৩ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ০.৪ শতাংশ বেড়েছে।



