…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
রাজনীতি

সংবিধান সংশোধন: তত্ত্বাবধায়ক, উচ্চকক্ষ ও ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কমিটির নবম বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধন: তত্ত্বাবধায়ক, উচ্চকক্ষ ও ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কমিটির নবম বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বড় পরিসরে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) কমিটির নবম বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা সংশোধন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরিফ খান কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ। আরিফ খান বলেন, কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন নিজেই বলেছেন, নবম বৈঠকটি এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত আইনজীবী, সংবিধান বিষয়ে শিক্ষক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা সংবিধান নিয়ে মৌলিক আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা, এর পরিধি ও পদ্ধতি। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তার আওতা কতটুকু সম্প্রসারণ করলে এই কমিটি সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা পাবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ সংশোধনের এখতিয়ার ও পদ্ধতিই ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়, এবং কমিটি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চেয়েছে।

এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন ও মৌলিক অধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে বলে আরিফ খান জানান। তিনি বলেন, কমিটির সব সদস্যের উপস্থিতিতে সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়েছে এবং সবাই দীর্ঘ সময় ধরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতামত দিয়েছেন।

কমিটির এখতিয়ার নিয়ে কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৬ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বৈচিত্র্যময় মতামত দিয়েছেন। আরিফ খানের পর্যবেক্ষণে, সব মতামত একসঙ্গে বিবেচনা করলে বিশেষজ্ঞরা একটি মধ্যবর্তী অবস্থান নিয়েছেন — এই কমিটির মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে, কারণ কমিটি সরাসরি সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না, তবে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারবে।

মৌলিক পরিবর্তন বলতে গুরুতর ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব বোঝায়। তবে সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়, এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ার কমিটির নেই। উদাহরণ হিসেবে আরিফ খান বলেন, কমিটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাতিল করে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিতে পারবে না, কারণ তাতে সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যাবে। এ ধরনের বিষয় ছাড়া কমিটির হাতে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে, এবং শেষ পর্যন্ত সবাই এই মধ্যবর্তী অবস্থানেই একমত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, যা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের বিষয়। আরিফ খান বলেন, সাম্প্রতিক অতীতে কয়েকজন বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিতর্কিত রায় দিয়েছেন। বিপুল মানুষের আস্থার জায়গা থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে উচ্চ আদালতের কয়েকজন বিচারপতি বাতিল করে দিয়েছিলেন, যার ফলে রাজনৈতিক ইতিহাস অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, বিচারপতিদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রমের চর্চা কীভাবে বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিচারপতিরা অনেক ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেন এবং নির্বাহী বিভাগকে খুশি করার মতো কাজও করতে দেখা যায় বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। এ নিয়ে প্রস্তাব এসেছে — কারও মতে বিচারপতিদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ভালো হলে সমস্যার সমাধান হবে, কারও মতে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে তা দূর হবে, আবার অনেকে প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো সংশোধন করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রায় দেওয়ার ক্ষমতার সীমা ও পরিধি নির্দেশিকা আকারে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, কোনো বিচারপতি সংবিধানের কোনো সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারবেন কি না, এবং পারলেও সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদের হস্তক্ষেপ ছাড়া আগের বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হবে কি না। আরিফ খান জানান, শনিবারের আলোচনায় অধিকাংশের মত ছিল, বিচার বিভাগ ক্ষেত্রবিশেষে কোনো সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিতে পারে, তবে সেই রায়ের ফলে সংসদের হস্তক্ষেপ ছাড়া আগের বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত হওয়া উচিত নয়।

বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে দেওয়ার বিষয় দুটি উদ্দেশ্যের দিক থেকে এক হওয়ায় একসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আরিফ খানের বোঝা অনুযায়ী, সরকারের অবস্থান থেকে কোনো আলোচকই বলেননি যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পৃথক সচিবালয় বা পদোন্নতি ও পদায়নে সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্ব প্রয়োজন নেই। বরং সংবিধান সংশোধনের পর নতুন সংবিধানের আলোকে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারকদের শাস্তি, বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে — এটাই সরকারের অবস্থান বলে তিনি বুঝেছেন। সরকার সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মৌলিক অধিকার নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করার সময় এসেছে কি না এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অনুযায়ী চিকিৎসা ও অন্যান্য অধিকারকে আরও সরাসরি বলবৎযোগ্য করা যায় কি না, তা আলোচনায় এসেছে। আরিফ খানের মতে, আলোচনায় অধিকাংশের মত ছিল সংবিধানে মৌলিক অধিকারের বর্তমান কাঠামো ও অবস্থান অপরিবর্তিত রাখাই ভালো।

নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটির বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়টি জুলাই সনদে রয়েছে। আরিফ খান বলেন, জুলাই সনদের বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রহণ-বর্জন করা যাবে — এ বিষয়ে সবাই একমত বলে মনে হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাছাই কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে সরকার ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে খুব একটা মতপার্থক্য দেখা যায়নি বলে আরিফ খান জানান। ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রাখা প্রয়োজন — এ বিষয়ে সবাই একমত। তবে যুদ্ধ ও অর্থবিলসহ তিন-চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না, এমন আলোচনা জুলাই সনদেও রয়েছে এবং এতে ঐকমত্য দেখা গেছে। তবে যুদ্ধের ক্ষেত্রে বিধানটি যুক্ত হলে অপব্যাখ্যা করে সুযোগ নেওয়ার আশঙ্কা তুলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভিন্নমত দিয়েছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে, তবে খুব বেশি নয়। একজন গবেষক বলেছেন, বাছাইপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতিটি বেশ পুরোনো ও অকার্যকর। এ বিষয়ে সরকারকে নির্দিষ্ট অবস্থান নিতে দেখা যায়নি বলে আরিফ খান জানান। সংসদের উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠন করা হবে তা নিয়েও বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে এবং একজন জ্যেষ্ঠ সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক একটি মধ্যবর্তী ও সমঝোতামূলক ফর্মুলা প্রস্তাব করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

মিষ্টির ছেড়ে যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান
রাজনীতি

মিষ্টির ছেড়ে যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এলিজা জামান। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় …

রাজনীতি

বর্তমান সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না সন্দেহ, যাত্রাবাড়ীতে বললেন নাহিদ ইসলাম

বর্তমান জাতীয় সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, সেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। …

মুন্সীগঞ্জে নাহিদ ইসলাম: রাষ্ট্রকাঠামো না বদলালে নতুন শাসকও আরেক হাসিনা হয়ে উঠবেন
রাজনীতি

মুন্সীগঞ্জে নাহিদ ইসলাম: রাষ্ট্রকাঠামো না বদলালে নতুন শাসকও আরেক হাসিনা হয়ে উঠবেন

মুন্সীগঞ্জ: রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই আসুন, তিনি আরেকজন শেখ হাসিনা হয়ে উঠবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ…

রাজনীতি

ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের ‘গোপন বৈঠকের’ দাবি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খাঁনের

ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গোপন বৈঠক করেছেন বলে দাবি করেছেন…