সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের অবহেলা ছিল কি না, প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তা জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অবহেলা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও প্রতিবেদন চেয়েছে কমিটি।
আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী। এটি ছিল কমিটির তৃতীয় বৈঠক।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। সেই তালিকায় ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম থাকলেও বিষয়টি যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, তালিকাভুক্ত বন্দীদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের জেল হতে পারে। মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি তাঁরা বুঝতে পারেননি।
এই ব্যাখ্যার পর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের কাছে এ বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটি বলেছে, সৌদি আরবের কাছ থেকে সেসব প্রশ্নের জবাব এলে তা যেন কমিটিকে জানানো হয়। সেই সঙ্গে কনস্যুলারের কোনো অবহেলা ছিল কি না, থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে কমিটি। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতেও এই সুপারিশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, কমিটি জানতে চেয়েছে—কনস্যুলার আগে কেন জানতে পারেনি, এখানে কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক; তাহলে তারা কেন আগে এটা জানাল না। তাঁর ভাষ্যে, এই ঘটনার কারণে বোঝা যাচ্ছে—সবকিছু মিলিয়ে এখানে একটা দুর্বলতা আছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ১৪ দিন আগে তথ্য বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, 'উনারা (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এটা স্বীকার করেছেন যে, ওই রিপোর্টটা আসলে ওইভাবে কেউ আইডেনটিফাই করেনি।'
বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
একই বৈঠকে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের বিষয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার নারী শ্রমিকের উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



