জাতিসংঘ মহাসচিবের দৌড়ে গাজায় সহায়তা পৌঁছানো আমিরাতি কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ
জাতিসংঘে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে ভূমিকা রাখা আমিরাতি কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে দেরিতে প্রার্থী হিসেবে নেমেছেন।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই কূটনীতিক ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে তাঁর অবস্থানের জন্য পরিচিত। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র তাঁকে সমর্থন দিয়েছে।
তবে সুদানের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) অস্ত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে আমিরাতের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে আছেন। আরএসএফের বিরুদ্ধে পরপর দুটি মার্কিন প্রশাসন গণহত্যার অভিযোগ এনেছে।
নুসেইবেহ আমিরাতের শীর্ষ কূটনীতিকদের একজন, যিনি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন যে জাতিসংঘের অস্ত্র বিক্রি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমিরাত আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান ‘হেমেদতি’ দাগালোকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় রাষ্ট্রগুলোর জোট সেলাক নিরাপত্তা পরিষদে আপত্তির চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের দাবি, জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি তাদের অঞ্চলের হাতে যাওয়া নিয়ে যখন ঐকমত্য গড়ে উঠছিল, ঠিক তখনই নুসেইবেহ দেরিতে এই দৌড়ে নেমেছেন।
নুসেইবেহ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ১৯৭৮ সালে আবুধাবিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জাকি ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর জন্মস্থান জেরুজালেমে ফেরা কঠিন হয়ে পড়ায় সেখানে অভিবাসী হন। তিনি ফিলিস্তিনি বুদ্ধিজীবী সারি নুসেইবেহর ভাতিজি; সারি ফিলিস্তিন নিয়ে ‘ওয়ান্স আপন আ কান্ট্রি’ নামে প্রশংসিত বইয়ের লেখক।
দেরিতে হলেও বহুল প্রত্যাশিত এই প্রবেশের ব্যাখ্যায় নুসেইবেহ বলেছেন, বাকি ছয় প্রার্থীকে নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ অচলাবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ছয় দফা ভোটের পরও কেউ স্পষ্ট এগিয়ে যেতে পারেননি; সর্বশেষ ভোট হয় ১৬ অক্টোবর।
সর্বশেষ স্ট্র পোলে কোস্টা রিকার রেবেকা গ্রিনস্পান শীর্ষ অবস্থানে ছিলেন। এই পোলেই প্রথম প্রকাশ পায়, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কেউ কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন কি না।
তবে গ্রিনস্পানের বিরুদ্ধে দুজন অজ্ঞাত স্থায়ী সদস্য আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের নয় সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন, আর পাঁচজন আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে তাঁর পক্ষে নিজেকে সর্বসম্মত প্রার্থী দাবি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গুতেরেস বছরের শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন আর্জেন্টিনার কূটনীতিক রাফায়েল গ্রোসি, গায়ানার জাতিসংঘ দূত ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট, উগান্ডার প্রবীণ কূটনীতিক ওলারা ওতুনু এবং ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা। আগে ঘোষণা দেওয়া দুজন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন।
নিজের ভিশন বিবৃতিতে নুসেইবেহ বলেছেন, ‘জাতিসংঘের কেন্দ্রে একটি বাজি রয়েছে: রাষ্ট্রগুলো আজ একটু ছাড় দেবে, যাতে সময়ের সঙ্গে তারা একসঙ্গে অনেক বেশি লাভবান হয়।’
তিনি আরও বলেছেন, রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের সঙ্গে অংশীদারত্বের প্রয়োজন বন্ধ করেনি, কিন্তু সহযোগিতা যথেষ্ট ফল দেবে—এই আস্থা তারা হারিয়েছে। দ্রুত, নিশ্চিত ও বাস্তবসম্মত ফল দিয়ে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই জাতিসংঘের কাজ।
বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রেট ম্যাকগার্ক গাজায় তাঁর কাজের জন্য নুসেইবেহকে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী আমিরাত কীভাবে গাজায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তা প্রদানকারী হলো—তার কারণ লানা নুসেইবেহ, যিনি সবাইকে চেনেন এবং সবার সঙ্গে কাজ করেন।




