কাচের ছাদ আর জানালা দিয়ে পশ্চিমঘাটের পাহাড়: মাদুরাই-গুরুভায়ুর ট্রেনে এল ভিস্তাডোম কোচ
পাহাড়, সবুজ বন আর উপত্যকার দৃশ্য দেখতে দেখতে ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা দিতেই নতুন এক বিশেষ কোচ চালু হয়েছে। দক্ষিণ রেলওয়ের মাদুরাই ডিভিশনে প্রথমবারের মতো ভিস্তাডোম কোচ যুক্ত হয়েছে মাদুরাই-গুরুভায়ুর এক্সপ্রেসে, যাতে চেপে যাত্রীরা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করতে পারবেন। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট কয়েক দিন এই পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।
ভিস্তাডোম কোচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বড় কাচের জানালা আর স্বচ্ছ কাচের ছাদ। পাহাড়ি পথে চলার সময় ঘন সবুজ বন, ঢেউখেলানো পাহাড় আর উপত্যকার দৃশ্য এই কাচের ভেতর দিয়েই স্পষ্টভাবে দেখা যায়, ফলে সাধারণ ট্রেনযাত্রার সঙ্গে এর অভিজ্ঞতার ফারাক তৈরি হয় শুরুতেই।
কোচটির ভেতরের সুবিধাও সাজানো হয়েছে আরামের কথা ভেবে। এক্সিকিউটিভ চেয়ার কারে একসঙ্গে ৪২ জন বসতে পারবেন। রয়েছে ঘোরানো যায় এমন আসন, পুশব্যাক চেয়ার আর আধুনিক শৌচাগার। বোতামের সাহায্যে জানালার কাচ ও ছাদকে স্বচ্ছ অথবা আংশিক স্বচ্ছ করা যায়, যাতে আলো আর দৃশ্য যাত্রী নিজের পছন্দমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
সময়সূচি অনুযায়ী, মাদুরাই জংশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ১৬৩২৭ নম্বর মাদুরাই-গুরুভায়ুর এক্সপ্রেসে প্রতি বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার এই কোচের পরিষেবা মিলবে। অন্যদিকে গুরুভায়ুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ১৬৩২৮ নম্বর ট্রেনে ভিস্তাডোম কোচ চলবে প্রতি শুক্রবার, শনিবার, রবিবার ও সোমবার।
এই ট্রেনের রুটেই রয়েছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মনোরম পাহাড়ি পথ। সেনকোট্টাই থেকে পুন্নালুরের মধ্যবর্তী অংশে চোখে পড়বে সবুজে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল, উপত্যকা আর আঁকাবাঁকা রেলপথ — যে দৃশ্যের জন্যই এই কোচকে বিশেষভাবে উপযোগী মনে করা হচ্ছে।
পথের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ আরিয়ানকাভু গিরিপথ। কাছেই রয়েছে সেনকোট্টাই গ্যাপ, পর্বতমালার মধ্য দিয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক গিরিপথ। সেখান থেকে পশ্চিমঘাটের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি দৃশ্য দেখা যায়, যা এই যাত্রাকে সাধারণ যাতায়াতের বাইরে এক ধরনের দর্শনীয় ভ্রমণে পরিণত করে।
রেলপথে রয়েছে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পাথিমুনু কান্নারা সেতু, যা ১৩-আর্চ ব্রিজ নামেও পরিচিত। একাধিক সেতু ও সুড়ঙ্গ এই রেলযাত্রাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে, আর ভিস্তাডোমের কাচের ছাদ-জানালা দিয়ে সেগুলো দেখার অভিজ্ঞতাই এই পরিষেবার মূল বিক্রির জায়গা।
সেনকোট্টাই ও পুন্নালুরের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি রেল সুড়ঙ্গ। এর মধ্যে ভগবতীপুরম ও আরিয়ানকাভুর মধ্যবর্তী সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। তামিলনাড়ু ও কেরলের সমতল অঞ্চলকে রেলপথে যুক্ত করতে এই সুড়ঙ্গগুলো নির্মিত হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
ভিস্তাডোম কোচে যাত্রার ভাড়াও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মাদুরাই জংশন থেকে পুন্নালুর পর্যন্ত ভাড়া ১,০১০ টাকা। এর্নাকুলাম টাউন পর্যন্ত যেতে জনপ্রতি খরচ পড়বে ১,৫৭০ টাকা। আর গুরুভায়ুর পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮৭৫ টাকা।
কেরলের গুরুভায়ুর ও তামিলনাড়ুর মাদুরাই — দুটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রকে যুক্ত করেছে এই ট্রেন। ফলে তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছেও এই রুটের আবেদন আলাদা, আর নতুন কোচ সেই আবেদনকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন ভিস্তাডোম পরিষেবার মাধ্যমে যাত্রীদের ট্রেন সফর আরও আরামদায়ক করার পাশাপাশি পশ্চিমঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর এই রেলপথের উল্লেখযোগ্য প্রকৌশলগত নিদর্শনগুলো পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে চাইছে দক্ষিণ রেলওয়ে। পরীক্ষামূলক পর্বে যাত্রীদের সাড়া কেমন মেলে, তার ওপরই নির্ভর করবে পরিষেবাটির পরবর্তী বিস্তারের সিদ্ধান্ত।






