ঘুড়ি উৎসব আর বিচ ফুটবলে মুখর কুয়াকাটা: দুই দিনের পর্যটন কার্নিভালে সৈকতে উৎসবের আমেজ
ঘুড়ি উৎসব, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিচ ফুটবল, পুঁথি পাঠ আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় চলছে দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল। সৈকতের বালুচর আর আকাশজুড়ে উৎসবের এই আমেজে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় লেম্বুর বন সৈকতে শুরু হয় এই কার্নিভাল। আয়োজন চলবে শনিবার পর্যন্ত। শুরুর দিন সকালে বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কার্নিভালের কর্মসূচি শুরু হয় বলে আয়োজনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার লেম্বুর বন সৈকতে নানা রঙের ঘুড়িতে বর্ণিল হয়ে ওঠে আকাশ। একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। রং-তুলির আঁচড়ে সাদা ক্যানভাসে শিশুরা ফুটিয়ে তোলে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের দর্শনীয় স্থানের ছবি। তাদের সৃজনশীলতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
টাঙ্গাইল থেকে আসা পর্যটক ইয়াসমিন-রুবেল দম্পতি জানান, তাঁরা মূলত পর্যটন কার্নিভাল উপলক্ষেই কুয়াকাটায় এসেছেন। তাঁদের মেয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার সকালের ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা। তাঁদের ভাষায়, বেশ ভালো ও জমকালো একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা পর্যটক কামরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি; শুক্রবার বিকেলের ঘুড়ি উৎসবের মধ্য দিয়ে তিনি যেন শৈশবে ফিরে গেছেন। এ জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
কার্নিভালের উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর সৈকতের ফিস ফ্রাই মার্কেটসংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠ। এরপর শুরু হয় দেশের তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সৈকতে কনসার্ট, যা উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দেয়।
শনিবার সকালে বিচ ম্যারাথন ও পিঠা উৎসবসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে কার্নিভালের শেষ দিনে। পিঠা উৎসবে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় কুয়াকাটায় প্রায় সাত শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের পরিদর্শক নাজমুল হাসান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণভাবেই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।
তবে উৎসব ঘিরে প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটকের আগমন ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক বাহিনীর সদস্য মাঠে তৎপর থাকলেও পর্যটক সমাগম নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে।
পর্যটকদের অনেকেই প্রতিবছর এই পর্যটন কার্নিভাল আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এমন আয়োজন কুয়াকাটার পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন খাতেও নতুন গতি আনতে পারে।
শনিবারের ম্যারাথন, পিঠা উৎসব ও বাকি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনের এই কার্নিভাল। আয়োজনের সফল সমাপ্তি ও পর্যটকদের নিরাপদ অংশগ্রহণের ওপরই এখন সবার নজর।






