ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা পুলিশের ওপর পিকআপ তুলে হত্যাচেষ্টা, চালকসহ আটক দুজন কারাগারে
ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচনের দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাফিক পুলিশের সংকেত অমান্য করে এক পুলিশ সদস্যের ওপর পিকআপ ভ্যান তুলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই পিকআপটির চালক ও তার সহযোগীকে আটক করে পুলিশ, পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর থানার আওতাধীন বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বর এলাকায়। শনিবার ২৪ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচন উপলক্ষে বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তায় যানবাহন রিকুইজিশন ডিউটিতে ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর ট্রাফিক পুলিশ ও সদর থানার সদস্যরা। নির্বাচন ঘিরে সেই সময় এলাকাটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পঞ্চগড়ের দিক থেকে আসা একটি হলুদ পিকআপ শহরের চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। পিকআপটির নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ন-১৪-৪০১২। কর্তব্যরত ট্রাফিক কনস্টেবল আব্দুস সালেক গাড়িটিকে থামার সংকেত দেন।
গাড়িটি থামলে কনস্টেবল সালেক চালককে নথিপত্র নিয়ে সার্জেন্ট শাহাজাহান আলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কিন্তু চালক ও তার সহযোগী নথিপত্র না দেখিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পালানোর সময় তারা কনস্টেবল সালেককে হত্যার উদ্দেশ্যে পিকআপটি ডান দিকে মোড় নিয়ে সজোরে ধাক্কা দেন এবং তাকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান — এজাহারের বর্ণনায় এমনটাই উঠে এসেছে।
কনস্টেবলের আর্তচিৎকার শুনে সহকর্মী পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় পথচারীরা ধাওয়া করে পিকআপটি আটক করেন। আহত কনস্টেবল অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পান বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মিজানুর রহমান, বয়স ৩৮, এবং রায়হান আলম, বয়স ২৩। মিজানুর পীরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগথা এলাকার এবং রায়হান একই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্বাচনি ডিউটিতে থাকা সরকারি চাকরিজীবীকে আঘাত, হত্যাচেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আদালতে তাদের জামিনের বিরোধিতা করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এমন হামলার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।




