চট্টগ্রামে অস্ত্রের মুখে সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা আদায়, প্রধান আসামি ‘ভেড়া সাইফুল’ গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের হালিশহরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে সাংবাদিককে জিম্মি, মুক্তিপণ দাবি এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মো. সাইফুল প্রকাশ ওরফে ভেড়া সাইফুলকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকেলে হালিশহর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে এ মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি সৈকত (২৪), ৮ নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৬) এবং ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাইফুলকে নিয়ে এই মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মঞ্জু বলেন, মামলার ১ নম্বর আসামি সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও ছিনিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আবুল হোসাইন দৈনিক পূর্বদেশের স্টাফ রিপোর্টার।
গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তিনি হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। সে সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন।
পরে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে তাঁকে জিম্মি করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সাংবাদিকের কাছে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৭০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ছেড়ে দেওয়ার আগে ওই সাংবাদিককে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও ধারণ করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ করলে কিংবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের পর এখন বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও ছিনিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের দিকে নজর দিচ্ছে পুলিশ।




