ইন্টার্ন নিয়োগের পোস্টে DEI ভাষা নিয়ে তুমুল বিতর্ক, সিনেটর মার্কির পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক ভুল' বলল আটলান্টিক
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কির একটি ইন্টার্ন নিয়োগের পোস্ট তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে ওই পোস্টের ভাষাকে 'রাজনৈতিক অপকর্ম' (political malpractice) বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যার যুক্তি—এমন ভাষা বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (DEI) নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর মার্কি তার বোস্টন কার্যালয়ের জন্য ইন্টার্ন খুঁজে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, 'BIPOC, LGBTQ+, শ্রমজীবী শ্রেণি, ভেটেরান এবং ম্যাসাচুসেটসের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য অনগ্রসর প্রার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।'
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই অনলাইনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, অন্তর্ভুক্তির বার্তা দেওয়ার আড়ালে এই ভাষা শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের বিরুদ্ধে খোলাখুলি বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।
আটলান্টিকের প্রবন্ধটির লেখক কনর ফ্রিডার্সডর্ফ। 'The DEI Language That's Doing More Harm Than Good' শিরোনামের প্রবন্ধে তিনি যুক্তি দেন, এ ধরনের ভাষা সেই শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকেই খোরাক জোগায়, যার বিরোধিতা ডেমোক্র্যাটরা করে থাকে।
ফ্রিডার্সডর্ফ লিখেছেন, উদ্দেশ্য যতই ভালো হোক, শ্বেতাঙ্গ পরিচয়-রাজনীতিকে উসকে দেয় এমন ভাষা সব বর্ণের আমেরিকানের জন্যই ক্ষতিকর এবং তা একটি রাজনৈতিক ভুল। তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের বরং সমান সুযোগের প্রতি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি জানানো ভাষা ব্যবহার করা উচিত।
বিতর্কে যোগ দিয়েছেন রক্ষণশীল থিংকট্যাংক ম্যানহাটান ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ক্রিস্টোফার রুফো। তিনি অভিযোগ করেছেন, মার্কির ইন্টার্ন নিয়োগের পোস্ট নাগরিক অধিকার আইনের খোলা লঙ্ঘন, এবং বিচার বিভাগকে ফেডারেল অভিযোগ আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প-আমলের সাবেক বিচার বিভাগ কর্মকর্তা থিও ওল্ডও সমালোচনায় শামিল হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির লক্ষ্য নাকি এই যে শ্বেতাঙ্গ পুরুষরা যেন লাভজনক কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগই না পায়।
তবে সমালোচনা শুধু প্রতিপক্ষ শিবির থেকেই আসেনি। ডেমোক্র্যাট রাজনৈতিক কৌশলবিদ কাইভান শ্রফ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেছেন, মার্কির পোস্টটি বৈচিত্র্যের জন্য বাস্তবে তেমন কিছু না করেই ক্ষোভের চক্রকে আরও খাবার জুগিয়েছে। তার ভাষায়, কোনো কার্যালয় সত্যিকারের বিস্তৃত আবেদনকারী পেতে চাইলে কলেজ, কমিউনিটি গ্রুপ ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আগে থেকেই সম্পর্ক থাকা উচিত, যাতে নিয়োগের খবর সেই প্রার্থীদের কাছে পৌঁছায়।
শ্রফ আরও বলেন, এখানে দক্ষতার প্রশ্নও জড়িত। তার মতে, একটি সিনেট কার্যালয়ের এমন সামাজিক মাধ্যমের ভাষা প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়, যা দেশের অর্ধেক মানুষকে ভাবায় তারা কম স্বাগত। পোস্টটিকে তার কাছে মনে হয়েছে প্রকৃত বৈচিত্র্যময় নিয়োগ-কাঠামোর বদলে কেবল মূল্যবোধ ঘোষণার একটি বিকল্প পথ।
প্রবন্ধটিতে প্রজন্মগত মনোভাবের একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে তরুণ পুরুষদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মনে করতেন আমেরিকায় পুরুষরা কিছুটা বৈষম্যের শিকার হন; ২০২৫ সালে সেই অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশে। জেনারেশন জেড-এর তরুণদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ তরুণ পুরুষদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের ধারণা আরও বেশি প্রবল বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে প্রবন্ধে সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের কার্যালয়ের ইন্টার্ন নিয়োগের বর্ণনাকে সামনে আনা হয়েছে। ওয়ারেনের কার্যালয় নিজেকে সমান সুযোগের নিয়োগকর্তা হিসেবে বর্ণনা করে এবং 'সব পটভূমির সবাইকে' আবেদন করতে উৎসাহিত করে—যা মার্কির পোস্টের ভাষার চেয়ে লক্ষণীয়ভাবে আলাদা।
শ্রফের মতে, বড় রাজনৈতিক ভুলটি হলো ডেমোক্র্যাটরা বারবার এমন সাংস্কৃতিক লড়াই প্রতিপক্ষকে প্রায় কোনো বাস্তব সুফল ছাড়াই উপহার দিচ্ছে। তিনি বলেন, সুযোগের পরিধি বাড়ানো কিংবা অতীতের অন্যায় যেখানে সম্ভব সেখানে সংশোধনের যুক্তি বেশির ভাগ মানুষই বোঝেন; কিন্তু যে ভাষায় মনে হয় এক গোষ্ঠীকে তুলতে গিয়ে অন্যকে নিচে নামানো বা বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা মানুষের কাছে বিরক্তিকর এবং ভুল। তার কথায়, রাজনীতি হলো যোগের, বিয়োগের নয়।
এই বিতর্ক নিয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল মার্কির কার্যালয়ের মন্তব্য চেয়েছিল, তবে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি এখন আর একটি ইন্টার্ন নিয়োগের পোস্টে সীমাবদ্ধ নেই; এটি যুক্তরাষ্ট্রে DEI ভাষা, সমান সুযোগ এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কৌশল নিয়ে চলমান বড় বিতর্কেরই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।






