মিরপুরে তল্লাশি চৌকিতে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ছুরিসহ আটক ২: দুজনের নামে রয়েছে ১২ মামলা
রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বিদেশি পিস্তলসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিরপুর ১১ নম্বরে মেট্রো স্টেশনের নিচে চলা তল্লাশি চৌকিতে মোটরসাইকেলে আসা ওই দুজনকে আটক করে পুলিশ। আটকরা হলেন মশিউল আজম ও শান্ত ইসলাম।
পুলিশ জানায়, তল্লাশি চৌকি চলাকালে বাইকে আসা দুজনকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের থামার সংকেত দেন। কিন্তু তাঁরা সংকেত অমান্য করে সামনে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার শনিবার সন্ধ্যায় আটকের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ‘তারা বাইকে করে যাচ্ছিলেন। পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে ধরা পড়েন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওরা সিগন্যাল ভায়োলেট করে সামনে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তখনই জীবনের রিস্ক নিয়ে তাকে চেজ করে এবং সামনে থেকেই কনস্টেবল খাইরুল দুজনকে একসাথে ধরে ফেলেন।’ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুজনকে একসঙ্গে ধরে ফেলা কনস্টেবল খাইরুলের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
ধরার পর দুজনের দেহ তল্লাশি করে মশিউলের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ছোট চাকু এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, মশিউল বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে থাকেন এবং যাদের কাছ থেকে চাঁদা নেন, এমন বিভিন্ন লোকজনের নাম তিনি জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক মশিউলের নামে বিভিন্ন থানায় ৯টি এবং শান্তর নামে ৩টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দুজনের নামে মোট ১২টি মামলার রেকর্ড মিলেছে।
আটকদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন, ‘যখনই কোনো আসামিকে আমরা অ্যারেস্ট করি, আমরা ব্যক্তিগতভাবে তার রাজনৈতিক দলের পরিচয় জিজ্ঞাসাবাদ করি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে কোন দল করে বা কোন ধর্ম, কোন মতে বিশ্বাসী—সেটা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। আমরা শুধু দেখি তার অপরাধের ধরন, তার অপরাধ কার্যক্রম, সে কী কী অপরাধ করেছে, কী কী আইন ভঙ্গ করেছে।’
রাজধানীতে তল্লাশি চৌকিগুলোতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই মিরপুরের এই চৌকি বসানো হয়েছিল। চৌকি এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা ও পরে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
আটক দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি কোন পথে তাঁদের হাতে এলো এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
এখন দেখার বিষয়, জিজ্ঞাসাবাদে আরও কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সূত্র ধরে নতুন কোনো গ্রেপ্তার হয় কি না। আটকদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় জানা যাবে।






