ঠাকুরগাঁওয়ে সংকেত অমান্য করে পুলিশের ওপর পিকআপ তুলে দেওয়ার অভিযোগ, চালকসহ গ্রেপ্তার ২
ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশের সংকেত অমান্য করে এক পুলিশ সদস্যের ওপর পিকআপ ভ্যান তুলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পিকআপটির চালক ও তাঁর সহযোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বর এলাকায়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচন উপলক্ষে সেদিন বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তায় যানবাহন রিকুইজিশন ডিউটি করছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর ট্রাফিক পুলিশ ও সদর থানার সদস্যরা।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পঞ্চগড় দিক থেকে আসা ঢাকা-মেট্রো-ন-১৪-৪০১২ নম্বরের একটি হলুদ পিকআপ শহর চৌরাস্তার দিকে যাওয়ার সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. আব্দুস সালেক গাড়িটি থামার সংকেত দেন। গাড়িটি থামলে কনস্টেবল সালেক চালককে নথিপত্র নিয়ে সার্জেন্ট মো. শাহাজাহান আলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
কিন্তু অভিযোগ, চালক মো. মিজানুর রহমান (৩৮) ও তাঁর সহকারী মো. রায়হান আলম (২৩) নথিপত্র না দেখিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পালানোর সময় তাঁরা কর্তব্যরত কনস্টেবল সালেককে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়িটি ডান দিকে মোড় নিয়ে সজোরে ধাক্কা দেন এবং তাঁকে প্রায় ১০-১৫ হাত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান।
এ সময় আহত কনস্টেবলের আর্তচিৎকার শুনে সহকর্মী পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় পথচারীরা ধাওয়া করে পিকআপটি আটক করেন। গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান আহত ওই কনস্টেবল। তাঁর আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন পীরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (জগথা) মো. মিজানুর রহমান এবং একই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের (রঘুনাথপুর) মো. রায়হান আলম। ঘটনার পরপরই তাঁদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মনিরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী ডিউটিতে থাকা সরকারি চাকরিজীবীকে আঘাত, হত্যাচেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এবং জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আদালতে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছিল। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উপনির্বাচনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নিরাপত্তা ও যানবাহন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আহত কনস্টেবলের চিকিৎসা ও ঘটনার পুরো বিবরণ সংগ্রহ শেষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।






