কফি পানের যে ছয় ভুলে উপকারের বদলে বাড়তে পারে অস্বস্তি
সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি অনেকের কাছেই ক্লান্তি কাটানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সাময়িকভাবে সজাগ রাখে, ফলে মনোযোগ বাড়ে এবং অবসাদ কমে বলে মনে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের তথ্য অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে কফি পান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফির উপকারিতা পেতে হলে শুধু পান করলেই হবে না—পরিমাণ ও পদ্ধতির দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ভুল পদ্ধতিতে কফি পান করলে উপকারের বদলে নানা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
প্রথম ভুল হলো অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ। অতিরিক্ত ক্যাফেইনে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন সাধারণত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
তবে এই সীমা সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কফির ধরন ও কাপের আকার অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ ভিন্ন হয়। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক কাপ কফি সবার জন্য নিরাপদ—এমনটি বলা যায় না বলে পরামর্শে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ভুল, দিনের দেরিতে কফি পান করা। ক্যাফেইনের প্রভাব অনেকক্ষণ শরীরে থেকে যায়। ফলে ঘুমের সময় কমে যেতে পারে এবং ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে। যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তারা বিকেলের পর কফি পান এড়িয়ে চলতে পারেন। প্রয়োজনে ঘুমানোর অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় ভুল হলো কফিতে বেশি চিনি মেশানো। কফির তেতো স্বাদ কমাতে অনেকে বেশি চিনি ব্যবহার করেন। কিন্তু নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। মিষ্টি সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা অতিরিক্ত মিষ্টি কফির পরিবর্তে সাধারণ কফি বেছে নেওয়া ভালো।
চতুর্থ বিষয়টি খালি পেটে কফি পান নিয়ে। সবার ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি পান ক্ষতিকর নয়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এতে বুকজ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেটে অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব হতে পারে। কারও খালি পেটে কফি পান করলে এমন সমস্যা হলে খাবারের পরে কফি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম ভুল, পানির চাহিদা শুধু কফি দিয়ে পূরণের চেষ্টা। কফিতে পানি থাকলেও শুধু কফির ওপর নির্ভর করে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করা উচিত নয়। পরিমিত কফি সাধারণত শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে না, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে।
ষষ্ঠ বিষয়টি হলো নিজের শরীরের সংকেত উপেক্ষা করা। কারও অল্প কফি পান করলেই বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ সীমিত রাখা জরুরি। এ ছাড়া কিছু ওষুধ গ্রহণকারী এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির কফি পানের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে পরামর্শ হলো—পরিমিত পরিমাণে কফি পান করুন, চিনি কম ব্যবহার করুন এবং ঘুমের সময়ের কাছাকাছি কফি পান করবেন না। নিজের শারীরিক অবস্থা ও ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার।



