ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বজনদের
ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গর্ভবতী ওই নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনা এমনিতেই অত্যন্ত মর্মান্তিক। মায়ের সঙ্গে সঙ্গে গর্ভের সন্তানের জীবনও এ ধরনের ঘটনায় ঝুঁকির মুখে পড়ে কিংবা হারিয়ে যায়। ফলে এমন মৃত্যুতে পরিবারের শোকের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন ওঠে।
স্বজনদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে 'ভুল চিকিৎসা'। অর্থাৎ তাদের দাবি, সঠিক চিকিৎসা পেলে এই মৃত্যু এড়ানো যেত। চিকিৎসা চলাকালে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত, দেরি কিংবা অবহেলা ঘটেছে কি না — অভিযোগের মূল জায়গাটা সেখানেই।
তবে অভিযোগ আর প্রমাণিত সত্য এক নয়। চিকিৎসায় ভুল হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রয়োজন হয় চিকিৎসার নথি পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞ মতামত। সে কারণেই এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওঠে সবার আগে — যাতে প্রকৃত কারণটি সামনে আসে।
বাংলাদেশে প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় জরুরি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত ও দ্রুত রেফারেলের বিষয়টি বারবার আসে। গর্ভাবস্থায় জটিলতা দেখা দিলে সময়মতো সঠিক পর্যায়ের চিকিৎসা পাওয়া না পাওয়ার ওপরই অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য নির্ভর করে।
ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠা ঘটনাগুলোতে সাধারণত দেখা যায়, পরিবার ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য একে অপরের থেকে আলাদা হয়। পরিবার অবহেলার কথা বলে, আর প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসক পক্ষ থেকে বলা হয় সব চেষ্টা করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তদন্তই হয়ে ওঠে সত্য জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।
মাতৃমৃত্যু কমানো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এই হার অনেক কমে এলেও প্রতিটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুই নতুন করে প্রশ্ন তোলে — সেবার মান, দক্ষ জনবল আর জরুরি প্রস্তুতির ঘাটতি রয়ে গেছে কি না।
এ ধরনের ঘটনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তথ্যের স্বচ্ছতা। চিকিৎসার ধাপগুলো কী ছিল, কখন কী করা হয়েছে — এসব তথ্য পরিবারকে জানানো হলে অনেক ভুল-বোঝাবুঝি কমে। তথ্য না পেলে অভিযোগ ও ক্ষোভ দুটোই বাড়তে থাকে।
ফতুল্লার এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তদন্ত। তদন্তে ভুল চিকিৎসার প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিষয়ে ব্যবস্থা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন — দুই ক্ষেত্রেই পরিবারটির সত্য জানার অধিকার রয়েছে।
অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর মৃত্যুতে তার পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে, আর এলাকায় তৈরি হয়েছে চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ। তদন্তের ফল ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর।




