ভ্যানে চড়ে কুয়াকাটা ঘুরলেন দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সাগরকন্যার সূর্যাস্তে মুগ্ধ সফরসঙ্গীরাও
সাগরকন্যা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর দিগন্তজোড়া সূর্যাস্ত উপভোগ করতে ভ্যানে চড়ে সৈকত ঘুরে দেখেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। ব্যতিক্রমী এই ভ্রমণ ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে ভ্যানে চড়ে লেম্বুরবন এলাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তাঁরা। বিকালের সোনালি আলো, সাগরের ঢেউ আর দিগন্তে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য এই ভ্রমণে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।
সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও দর্শনীয় স্থানগুলোও ঘুরে দেখেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীরা। ভ্যানে চড়ে সৈকতসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁরা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করেন।
এই সফরে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে আরও ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান শামীমুজ্জামান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এবং পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম।
এ ছাড়া ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাশু সরকার কুট্টি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে ভ্রমণটি একই সঙ্গে ছিল পর্যটন এলাকা সরেজমিনে দেখার একটি সুযোগও।
‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’ উপলক্ষে এই ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কার্নিভাল উপলক্ষে সৈকতজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। বিচ ফুটবল, ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
আয়োজনের আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং কুয়াকাটাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। সেই লক্ষ্যেই কার্নিভালকে কেন্দ্র করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নানা দিক।
কুয়াকাটা তার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একই সৈকত থেকে দেখার সুযোগের জন্য ‘সাগরকন্যা’ হিসেবে পরিচিত। জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুরবন পর্যন্ত সৈকত এলাকা এই সৌন্দর্যেরই অংশ, যা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ভ্যানে চড়ে ঘুরে দেখলেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। মন্ত্রী পর্যায়ের উপস্থিতি ও সরেজমিন পরিদর্শন সেই সম্ভাবনাকে সামনে আনার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
একই সঙ্গে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতেও এই কার্নিভাল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
দুই দিনের কার্নিভালের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন ঘিরে এখন পর্যটকদের আগ্রহ থাকবে। কুয়াকাটাকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার এই উদ্যোগের ফল পর্যটক সমাগমেই পরিমাপ করা যাবে।






