এক বছর বয়সী শিশুকে একা আদালতে হাজিরের খবর নাকচ করল মার্কিন কর্তৃপক্ষ: সময়রেখা ধরে ধরে জানাল কী ঘটেছিল
অভিবাসন আদালতে আইনজীবী ছাড়া একা হাজির হতে হয়েছে এক বছর বয়সী এক শিশুকে—এমন খবরকে চ্যালেঞ্জ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের (ওআরআর) কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেছেন, শিশুটি সব শুনানিতে তার মায়ের সঙ্গেই ছিল এবং পরে তার জন্য আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থাও হয়েছে।
ওআরআরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অ্যাঞ্জি সালাজার ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জন ফ্যাব্রিকেটরি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাবেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা ও চালানের হিসাব যাচাই না হওয়ার কারণেই প্রাথমিক শুনানিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
ফ্যাব্রিকেটরি বলেন, ‘এমন কোনো বড় চিত্র নেই যেখানে অনেক এক বছর বয়সী শিশু আদালতে যাচ্ছে।’
ওআরআরের সময়রেখা অনুযায়ী, মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা (সিবিপি) কর্মকর্তারা গত ২৫ জুন অ্যারিজোনার নাকোর কাছে ওই এক বছর বয়সী ছেলেশিশু ও তার ১৭ বছর বয়সী মায়ের মুখোমুখি হন। শিশুটি সব আদালত কার্যক্রমে মায়ের সঙ্গেই উপস্থিত ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান।
সমস্যার সূত্রপাত ঘটে জুলাই মাসে, সংস্থাটির সাবেক ঠিকাদার অ্যাকাশিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের অধীনে। ১ জুলাই অ্যাকাশিয়া মা ও শিশুর জন্য আইনি দিকনির্দেশনা ও পরামর্শের কাজ সম্পন্ন করলেও অভিবাসন আদালতে ই-২৮ উপস্থিতির নোটিশ জমা দিতে ব্যর্থ হয়।
ফলে ৮ জুলাই শিশুটির প্রথম নির্ধারিত শুনানিতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না—আদালতের বন্ধু হিসেবেও কেউ নন—যদিও তখন অ্যাকাশিয়ার সঙ্গে ফেডারেল আইনি সেবার চুক্তি সক্রিয় ছিল। অ্যাকাশিয়ার সঙ্গে ফেডারেল আইনি সেবা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ৩১ জুলাই।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যয়ের নথি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাইডেন প্রশাসনের সময় অ্যাকাশিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসকে সঙ্গীহীন শিশুদের আইনি সেবার জন্য ৩৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের একটি ব্রিজ চুক্তি দিয়েছিল। চুক্তি বাতিলের আগে সেই অর্থের মধ্যে ২৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের বেশি পরিশোধ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২০ হাজার অভিবাসী শিশুকে পরামর্শ সেবা দিত বলে নিজেদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে।
সালাজার বলেন, আইনি সেবার জন্য কখনো কখনো মাসে দুই কোটি ডলারের বেশি চালানে তিনি স্বাক্ষর করতেন। ‘তাই আমার কাছে এর কোনো মানে ছিল না যে আইনি সেবা প্রদানকারীরা বলছেন, তহবিলের অভাবে শিশুরা প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে না,’ বলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রাপ্ত চালানগুলো সম্পূর্ণ সম্পাদিত (রিড্যাক্টেড) ছিল, ফলে ওই মাসে ঠিক কোন সেবা দেওয়া হয়েছে তা জানার কোনো উপায় ছিল না।
অ্যাকাশিয়ার চুক্তি বাতিলের পর ওআরআর যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী ও অভিবাসী কমিটির (ইউএসসিআরআই) সঙ্গে দুই কোটি ডলারের চুক্তি করে, যার মেয়াদ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। ইউএসসিআরআই ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি সেবা শুরু করে।
৭ আগস্টের শুনানিতে মা ও শিশুকে আইনজীবী জোগাড়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এরপর ১৭ ও ২৮ আগস্টের শুনানিতে ইউএসসিআরআইয়ের প্রতিনিধিরা আদালতের বন্ধু হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
৩১ আগস্ট আদালতের বন্ধু ও মায়ের পক্ষ থেকে সরকারি খরচে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী চেয়ে আবেদন করা হয়, যা পরে অভিবাসন বিচারক খারিজ করে দেন।
সেপ্টেম্বরে অগ্রগতি আসে—২৩ সেপ্টেম্বর শিশু অধিকারকর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ইউএসসিআরআই রেকর্ডভুক্ত আইনজীবী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ই-২৮ নোটিশ জমা দেয়। ২৯ সেপ্টেম্বর ইউএসসিআরআই আনুষ্ঠানিকভাবে মা ও শিশু উভয়ের প্রতিনিধিত্ব করে আদালতে। এরপর বিচারক ২ অক্টোবর শুনানি মুলতবি করেন এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয় শুক্রবার।
কর্মকর্তারা বলেছেন, জুলাইয়ের এই বিঘ্নগুলোই ছিল অ্যাকাশিয়ার বহু মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিলের মূল কারণ। ফ্যাব্রিকেটরি বলেন, ‘ইউএসসিআরআই আদালতে আদালতের বন্ধু হিসেবে উপস্থিত থাকছিল, যাতে অ্যাকাশিয়া না এলেও অন্তত কেউ উপস্থিত থাকে। এখন এসব মামলা পর্যালোচনার সময় ইউএসসিআরআই শিশুদের সঙ্গে দেখা করে পরবর্তী শুনানিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে।’
সালাজার জোর দিয়ে বলেন, কোন শিশুর প্রতিনিধিত্ব কোন আইনজীবী কোন তারিখে করছেন, তা ওআরআর নজরদারি করে এবং আইনজীবী-মক্কেল গোপনীয়তাকে সম্মান করে। ফ্যাব্রিকেটরির অভিযোগ, সাবেক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এসব পরিমাপযোগ্য তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল—এমনকি কোন মামলায় তারা আসলে প্রতিনিধিত্ব করছে তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালিয়েন রেজিস্ট্রেশন নম্বরও দিতে চায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সালাজার জানান, ওআরআরের হেফাজতে থাকা অভিবাসী শিশুদের প্রায় ২ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। আরেক ৮৫ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে, যার মধ্যে ৬২ শতাংশই ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নতুন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ইউএসসিআরআইকে বলেছি—আমাদের হেফাজতে থাকা শিশুরা যেসব শুনানিতে হাজির হচ্ছে, তার শতভাগেই তোমাদের থাকতে হবে। সেটা হচ্ছে। আমার মনে হয় আমরা এখন প্রায় ৯৮ শতাংশে আছি।’
ফ্যাব্রিকেটরি জানান, বর্তমানে ওআরআরের হেফাজতে ১ হাজার ৬৯০ জন অভিবাসী শিশু রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘বাইডেনের সময় প্রতিদিন ২২ হাজার শিশু হেফাজতে থাকত। পার্থক্যটা বিশাল। আমরা এই সংখ্যা কমাতে পেরেছি, শিশুদের আদালত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে সম্ভব হলে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারছি।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অ্যাকাশিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।





