ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫১২ জন
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫১২ জন রোগী।
এক দিনে দেড় হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এই চিত্রই বলছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনের এই ভর্তির চাপ হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করছে।
মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই নতুন করে যোগ হচ্ছে। সর্বশেষ এক দিনে ৫ জনের প্রাণহানির খবর সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে যাদের অবস্থা জটিল হয়ে ওঠে, তাদের জন্যই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫১২ জনের এই সংখ্যা এক দিনের হিসাব। অর্থাৎ এক দিনেই এত মানুষ ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন। এতে বোঝা যায়, মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার এখনো বিস্তৃত পর্যায়ে রয়েছে।
ডেঙ্গু মৌসুমে প্রতিবছরই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে, তবে এবার প্রতিদিনের মৃত্যু ও ভর্তির ধারাবাহিক উচ্চ হার জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
চিকিৎসকরা বারবার বলছেন, জ্বর হলেই অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে প্লাটিলেট কমে যাওয়া কিংবা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণই মূল অস্ত্র। বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, ছাদ ও বারান্দায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দিনে-রাতে মশারি ব্যবহারের মতো সাধারণ সতর্কতাই সংক্রমণ কমাতে পারে।
সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বারবার। আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন — মাঠপর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা না গেলে আক্রান্তের এই ধারা থামানো যাবে না বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্টরা। নাগরিকদের সচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান — দুটোই এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
পরিবারগুলোর জন্য এই সময়টা সবচেয়ে উদ্বেগের। জ্বরে আক্রান্ত স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে অনেককেই। কারও কারও ক্ষেত্রে সেই লড়াই শেষ হচ্ছে প্রাণহানির করুণ খবরে।
সব মিলিয়ে এক দিনে ৫ মৃত্যু ও ১ হাজার ৫১২ জন নতুন ভর্তির এই হিসাব আবারও মনে করিয়ে দিল, ডেঙ্গু এখন দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। আগামী দিনগুলোতে আক্রান্তের হার কমে আসে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।





