…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › ইউরোপ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ইউরোপ

বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা প্যাকেজ অনুমোদন ইতালির: মিলানে ৫০০ সেনা, দাঙ্গায় পাঁচ বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিক্ষোভ-সহিংসতা ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে ইতালির সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিক্ষোভে সহিংস অংশগ্রহণকে নতুন অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, বেড়েছে দাঙ্গাকারীদের শাস্তি, আর ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেওয়া সন্তানদের ক্ষতির দায় বর্তাবে বাবা-মায়ের ওপরেও।

ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনারা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে, সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়াতে এবং সার্বিক পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। তবে সেনাদের পুলিশি ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়নি। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লার আপত্তির কারণেই ওই প্রস্তাবটি পাস হয়নি।

গত সপ্তাহান্তে ইতালির উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোতে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। আর্থিক রাজধানী মিলানে মূলত তরুণদের দল দোকানপাট লুট করে, জানালা ভাঙচুর করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের চড়া দাম, উচ্চ ভাড়া, কম মজুরি আর জনসেবার বেহাল দশার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

নতুন আইনি ব্যবস্থাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে। এর আওতায়, বিক্ষোভ চলাকালে কমপক্ষে পাঁচজনের দলে থেকে জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইউরো (২২ হাজার ৪৬০ ডলার) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মুখ ঢেকে অংশ নিলে কিংবা কেউ আহত হলে শাস্তি আরও বাড়বে।

ক্ষয়ক্ষতির জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশও দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সেই আর্থিক দায় বহন করতে হবে তাদের বাবা-মাকে। ফলে ভাঙচুরে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবারগুলোর ওপরও সরাসরি চাপ তৈরি হলো।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে কিশোরদের আটকের ক্ষমতায়। নতুন নিয়মে, কোনো অপরাধ না করলেও ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের আটক করতে পারবে পুলিশ, যদি তারা বিপজ্জনক বলে প্রমাণ থাকে। এই ক্ষমতা আগে কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘ধ্বংস করা আর চুরি করা বিক্ষোভ নয়, এটা অপরাধ; আর রাষ্ট্রের জবাব হতে হবে কঠোর।’ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি এই কঠোর বার্তাই দিয়েছেন।

উত্তরের অস্থিরতার পাশাপাশি দক্ষিণ ইতালিতেও আরেক ধরনের বিক্ষোভের চাপে রয়েছে মেলোনি সরকার। সেখানে ডিজেলের চড়া দাম ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাকচালকেরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন, যাতে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। অর্থাৎ একই সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ—দুই প্রান্তের অসন্তোষ সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বাড়তে থাকা দাম পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাশের দেশ ফ্রান্সেও গত শনিবার লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন; কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছিল দেশটি। ইতালির উত্তরের ঘটনাগুলোকে সেই ঢেউয়েরই প্রতিধ্বনি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মেলোনির জন্য সংবেদনশীল, কারণ ২০২৭ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ তাঁর সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কঠোর নিরাপত্তা প্যাকেজ সেই চাপ মোকাবিলারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে—আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান দেখিয়ে সরকার জনমনে আস্থা ফেরাতে চাইছে।

তবে নতুন পদক্ষেপগুলো কতটা মাঠে শান্তি ফেরাতে পারবে, তা এখনো দেখার বিষয়। সেনা মোতায়েন ও কঠোর শাস্তির পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির মূল সমস্যা—জ্বালানি, ভাড়া ও মজুরি—নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

ইউরোপ বিভাগের আরও খবর

ইউরোপ

ফ্রান্সে রাতের কারফিউ ‘যতদিন প্রয়োজন’ চলবে: প্যারিস-লিওঁর পর মার্সেইতেও বিধিনিষেধ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও লিওঁ শহরের কেন্দ্রগুলোতে মঙ্গলবার নতুন করে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। বছরের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দাঙ্গার পর প্রথম শান্ত র…

ইউরোপ

রোমানিয়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রী লুকা নিকুলেস্কুর শপথ, মাসের পর মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান

রোমানিয়ায় মাসের পর মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন স্বতন্ত্র কূটনীতিক লুকা নিকুলেস্কু। মঙ্গলবার …

ইউরোপ

শনিবারের দাঙ্গার দায় কার—এই প্রশ্নে বিভক্ত ফ্রান্স, ছয় মাস পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে তপ্ত রাজনীতি

‘এটা ফ্রান্সের মুখ নয়! আপনারা সংবাদমাধ্যম শুধু শনিবারের বিক্ষোভের সহিংসতা আর ধ্বংসই দেখান। কিন্তু সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। সেটা ‘আমরা’ নই। সেটা ফ্রান্স…