মার্কিন কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে ইনস্টাকার্টের ৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা
মার্কিন চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে জনপ্রিয় মুদি ডেলিভারি কোম্পানি ইনস্টাকার্ট মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে বহু মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে।
বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগ জানিয়েছে, ডেলিভারি সেবাটি পরিচালনাকারী ম্যাপলবিয়ার ইনকরপোরেটেডের সঙ্গে ৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, কোম্পানিটি দেশের উৎসের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ও মার্কিন কর্মীদের প্রতি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বৈষম্য করেছে, যা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এবং ১৯৬৪ সালের নাগরিক অধিকার আইনের সপ্তম অধ্যায় লঙ্ঘন করে।
বিচার বিভাগের মতে, কোম্পানিটি স্থায়ী শ্রম সনদ (পার্ম) প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে মার্কিন আবেদনকারীদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়েছিল—তাদের শারীরিকভাবে ডাকে আবেদন পাঠাতে বাধ্য করে, যা ইনস্টাকার্টের স্বাভাবিক ইলেকট্রনিক আবেদন প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন ছিল। এই ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত কে. ধিলন বলেন, ‘মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় আমার নেতৃত্বে নাগরিক অধিকার বিভাগের পৌঁছানো ১৫তম সমঝোতা চুক্তি এটি। আমাদের রেকর্ড প্রমাণ করে, যেসব কোম্পানি অস্থায়ী কর্ম ভিসাধারী কর্মীদের প্রাধান্য দেয়, বিচার বিভাগ তাদের জবাবদিহির আওতায় আনছে। ন্যায্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আমরা মার্কিন কর্মীদের জন্য লড়াই থামাব না।’
সমঝোতাটি যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশনের (ইইওসি) সঙ্গে যৌথভাবে অর্জিত হয়েছে। ইইওসি এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’।
সমঝোতা অনুযায়ী, ইনস্টাকার্টকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন আবেদনকারীদের ক্ষতিপূরণের জন্য ৪ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করতে হবে এবং আরও ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ানি জরিমানা দিতে হবে।
পার্ম কর্মসূচি নিয়োগদাতাদের অস্থায়ী ভিসাধারী কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য স্পনসর করার সুযোগ দেয়। তবে এই কর্মসূচি ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোকে বিদেশিদের দিকে যাওয়ার আগে মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের জন্য ‘সদিচ্ছামূলক’ প্রচেষ্টা চালাতে হয়।
বিচার বিভাগের ভাষায়, কোম্পানিগুলো মার্কিন কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত বাধা তৈরি করতে পারে না, এমন চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারে না যা মার্কিন কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক, কিংবা এমন প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে পারে না যা মার্কিন আবেদনকারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে এ ধরনের সমঝোতা এ নিয়ে ১৫তম। এটি মার্কিন কর্মীদের যেন অবৈধভাবে বৈষম্যের শিকার না হতে হয়, তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
ইইওসির চেয়ার আন্দ্রেয়া লুকাস বলেন, ‘আজকের সমঝোতা স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিয়োগদাতারা মার্কিন কর্মীদের ক্ষতি করে এমন অবৈধ বাধা তৈরি করলে ইইওসি কঠোর পদক্ষেপ নেবে। আমেরিকান জাতীয় উৎসের ভিত্তিতে কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের কোনো স্থান আমাদের অর্থনীতিতে নেই।’
ইনস্টাকার্টের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মুদি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে হাজারো মার্কিন কর্মী কাজ করেন এবং লাখো গ্রাহক, খুচরা বিক্রেতা, ক্রেতা ও ব্র্যান্ড সেবা পান। তিনি বলেন, যোগ্য মার্কিন চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনে তারা উৎসাহ দেন এবং প্রতিটি পদ বহু মাধ্যমে প্রচার করা হয়। তাঁর ভাষায়, তাদের চর্চা সব প্রযোজ্য আইন মেনেই ছিল বলে তারা মনে করেন, তবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ায় তারা খুশি, যাতে তারা পুরো মনোযোগ তাদের লক্ষ্যে দিতে পারে।






