ট্রাম্প সমর্থন দিলেও নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি ভ্যান্সের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানালেও সেই পথে হাঁটলেন না ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি জড়াবেন না এবং নেতানিয়াহুকে সমর্থনও দিচ্ছেন না।
সোমবার ‘টুওয়ে টুনাইট’ অনুষ্ঠানে মার্ক হ্যালপেরিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এই অবস্থান জানান। পলিটিকোর বরাতে জানা গেছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের দিকেই রয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সমর্থন আমেরিকান কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে কার্যকর সমর্থন। আমি আমেরিকান প্রার্থীদের সমর্থন দিই, আর মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমার মনোযোগ সেখানেই। তাই আমি ইসরায়েলের নির্বাচনে জড়াচ্ছি না।’
তবে ভ্যান্স পরিষ্কার করেছেন, তার এই সিদ্ধান্তকে নেতানিয়াহুর বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, ‘আমি তার বিপক্ষেও সমর্থন দিচ্ছি না, পক্ষেও সমর্থন দিচ্ছি না। আমি ইসরায়েলের নির্বাচনে জড়াচ্ছিই না।’
ভ্যান্সের এই মন্তব্য এসেছে ঠিক এক দিন পর, যখন ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ এক পোস্টে নেতানিয়াহুকে তার ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন’ জানিয়েছিলেন। ওই পোস্টে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ইরান মোকাবিলায় অংশীদার হিসেবে প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু একজন মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এবং ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মোকাবিলায় শান্তির জন্য আরও বড় অংশীদার।’ তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও নেতানিয়াহু শক্ত অবস্থানে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের পোস্টের ভাষা ছিল আরও সরাসরি। তিনি লেখেন, ‘এই চিঠির মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচনের দৌড়ে বিবি নেতানিয়াহুকে আমার সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন জানাচ্ছি। বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনো হতাশ করবেন না!’
নেতানিয়াহু দ্রুতই প্রেসিডেন্টের এই সমর্থনকে স্বাগত জানান। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার ‘অসাধারণ সমর্থনের’ কথা উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমার বন্ধু ডোনাল্ড — আপনার অসাধারণ সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের এর চেয়ে বড় বন্ধু আর কখনো ছিল না। আমরা একসঙ্গে কখনোই ইরানের সরকারকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না।’
ট্রাম্প ও ভ্যান্সের এই ভিন্ন অবস্থান নিয়ে এখন আলোচনা চলছে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রেসিডেন্ট যেখানে বিদেশি এক নেতার নির্বাচনী দৌড়ে পুরোপুরি নিজেকে যুক্ত করেছেন, সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট সচেতনভাবে নিজেকে দূরে রাখলেন।
অবশ্য ভ্যান্সের এই অবস্থান একেবারে নজিরবিহীন নয়। জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে তিনি আরেকটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়েছিলেন। এপ্রিলে তিনি হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পাশে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত অরবান পুনর্নির্বাচনের দৌড়ে হেরে যান।
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফক্স নিউজ ডিজিটাল যোগাযোগ করলেও হোয়াইট হাউস তখনই সাড়া দেয়নি।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর জন্য ট্রাম্পের সমর্থন বড় রাজনৈতিক সম্পদ হলেও ভ্যান্সের নিরপেক্ষ অবস্থান দেখিয়ে দিল, প্রশাসনের ভেতরেও এই প্রশ্নে সবার কৌশল এক নয়। এখন দেখার বিষয়, ভ্যান্সের এই দূরত্ব ইসরায়েলের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।



