বহিষ্কারের লড়াই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মাহমুদ খলিল, বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে বড় আইনি সংঘাতের আশঙ্কা
ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল তার বহিষ্কার ঠেকানোর লড়াই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার আইনজীবীরা একটি আপিল আদালতের রায় পর্যালোচনার আবেদন করেছেন, যে রায় কার্যকর হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে।
সোমবার খলিলের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করেন। ফিলাডেলফিয়ার তৃতীয় সার্কিট আপিল আদালতের একটি সিদ্ধান্তের ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে।
ওই আপিল আদালত রায় দিয়েছিল, ২০২৫ সালের জুনে নিম্ন আদালতগুলোর পক্ষে খলিলকে অভিবাসন আটক থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া সঠিক হয়নি; ফেডারেল আইন অনুযায়ী তা করা যেত না। আদালতের মতে, তার আটকের বিষয়টি প্রথমে বিচার করা উচিত ছিল অভিবাসন আদালতে — যে ব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করে নির্বাহী বিভাগ — জেলা আদালতে নয়, যেটি বিচার বিভাগের অংশ।
খলিলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন বড় ধরনের আইনি সংঘাতের রূপ নিতে পারে। সেখানে নির্ধারিত হতে পারে, বাকস্বাধীনতা প্রয়োগের কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে আটক করা হলে অ-নাগরিকদের রক্ষায় ফেডারেল আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে কিনা।
খলিলের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টকে এই রায় দিতে বলেছেন যে, বাকস্বাধীনতা চর্চার প্রতিশোধ হিসেবে অভিবাসন কর্মকর্তারা আটক করলে অ-নাগরিকদের মামলা করার অধিকার আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে খলিল বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন যদি ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের জন্য কাউকে শাস্তি দিতে পারে, তাহলে এই প্রশাসন কিংবা ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন যেকোনো বক্তব্যের জন্য যেকোনো কাউকে শাস্তি দিতে পারবে।’
২০২৫ সালের মার্চে খলিলই প্রথম ছাত্র প্রতিবাদী, যাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের সময় ফিলিস্তিনপন্থী মতামতের জন্য লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক স্নাতক শিক্ষার্থী খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তার ছাত্রাবাস ভবন থেকে, যেখানে তিনি মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন।
ট্রাম্প ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচনের প্রচারে আংশিকভাবে ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র আন্দোলন দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সিরিয়ার একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া খলিল ওই প্রতিবাদ গোষ্ঠীগুলোর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থী সক্রিয়তাকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রশাসনের যুক্তি, এ ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া অ-নাগরিকদের বহিষ্কার করার আইনি অধিকার তার আছে।
গ্রেপ্তারের পর খলিলকে দ্রুত নিউ জার্সির অভিবাসন আটককেন্দ্রে, তারপর লুইজিয়ানায় সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি তিন মাসের বেশি সময় আটক ছিলেন।
আইনি লড়াই তিনি দুই পথেই চালিয়ে যাচ্ছেন — অভিবাসন আদালত ব্যবস্থায় এবং ফেডারেল জেলা আদালতে দায়ের করা হেবিয়াস করপাস মামলায়। দুটি মামলাই এখনো চলমান। তবে গত এপ্রিলে অভিবাসন আপিল বোর্ড অভিবাসন আদালত ব্যবস্থায় তার আপিল খারিজ করে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ জারি করে। তৃতীয় সার্কিটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে খলিলকে আলজেরিয়া কিংবা সিরিয়ায় বহিষ্কারের মুখে পড়তে হবে। গত মে মাসে তৃতীয় সার্কিট সংকীর্ণ ব্যবধানে ছয়-পাঁচ ভোটে তার মামলা পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সব আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
এদিকে সোমবার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফটকের বাইরে নীরব অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর হাতে নেওয়া ‘অপহৃত শিক্ষার্থীদের’ প্রতি প্রতিবাদ জানাতে এই কর্মসূচি হয়। সেখানে খলিল ও সহকর্মী ছাত্র প্রতিবাদী মহসেন মাহদাবিসহ অন্যদের প্রতিকৃতি সংবলিত প্ল্যাকার্ড তুলে ধরা হয়। বিক্ষোভকারীরা বহিষ্কারের মুখে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান এবং প্রতিবাদ আন্দোলনের সময় বন্ধ করে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকগুলো জনসাধারণের জন্য আবার খুলে দেওয়ার দাবি জানান।



