আনন্দ আর সম্প্রীতির আবহে শারদীয় দুর্গোৎসব, আজ মহাসপ্তমীর পূজা ও কলাবউ স্নান
আনন্দ আর সম্প্রীতির আবহে দেশে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের অন্যতম প্রধান দিন মহাসপ্তমী আজ; এ উপলক্ষে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সপ্তমীর পূজা ও কলাবউ স্নানের আনুষ্ঠানিকতা।
দুর্গোৎসবের ধারাবাহিকতায় মহাসপ্তমীর দিনটি ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই দিনের পূজার মধ্য দিয়েই উৎসবের মূল পর্ব আরও গতি পায়; ভোর থেকেই পূজার প্রস্তুতি ও আচার-অনুষ্ঠানকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
সপ্তমীর পূজার অন্যতম পরিচিত আনুষ্ঠানিকতা কলাবউ স্নান। এই আচার ঘিরে ভক্তদের মধ্যে থাকে বাড়তি আগ্রহ ও আবেগ; পূজার অন্যান্য পর্বের মতোই এই আনুষ্ঠানিকতাও উৎসবের চিরায়ত রূপটিকে সামনে নিয়ে আসে।
এবারের দুর্গোৎসবে সবচেয়ে বেশি যে বার্তাটি সামনে এসেছে, তা হলো সম্প্রীতির বার্তা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের আবহেই উৎসবটি উদ্যাপিত হচ্ছে বলে চারদিক থেকে সেই চিত্রই উঠে আসছে।
উৎসবকে ঘিরে এই সম্প্রীতির আবহ নতুন নয়, তবে প্রতিবছরই দুর্গোৎসবের সময় তা নতুন করে আলোচনায় আসে। পূজা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি এবং একে অপরের উৎসবে অংশ নেওয়ার চিত্র এই বার্তাকেই আরও জোরালো করে।
মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, ঢাকের বাদ্যি আর ভক্তদের আনাগোনায় উৎসবের আমেজ এখন তুঙ্গে ওঠার পথে। মহাসপ্তমীর পর আসবে মহাষ্টমী ও মহানবমীর পালা—উৎসবের সবচেয়ে জমজমাট দিনগুলো।
পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজা দেখতে বের হওয়া মানুষের ভিড় উৎসবের দিনগুলোতে শহর ও গ্রামের চেনা ছবি। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণেই দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে সার্বজনীন উৎসব।
উৎসবের এই দিনগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়েও থাকে বাড়তি তৎপরতা, যাতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে পূজা ও উৎসব উপভোগ করতে পারেন। আনন্দের আবহের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখাই থাকে সবার প্রত্যাশা।
দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অন্যতম বড় উৎসবও বটে। সেই কারণেই সম্প্রীতির বার্তা এই উৎসবের সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে আছে—এবারের উদ্যাপনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
মহাসপ্তমীর পূজা শেষে ভক্তদের নজর এখন মহাষ্টমীর দিকে। উৎসবের বাকি দিনগুলোতেও একই আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশাই পূজার মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো মানুষের।



