সিডনিতে কথিত বন্দুকধারীকে ঘিরে লকডাউনের পর অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, সাতটি অভিযোগ
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ইনার ওয়েস্টের ডালউইচ হিল এলাকায় গত সপ্তাহে কথিত বন্দুকধারীকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ও সশস্ত্র ডাকাতিসহ সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার শুরু শুক্রবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে। উইলিয়ামস প্যারেডের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় কথিত চুরি হওয়া গাড়ির খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। কর্মকর্তাদের জানানো হয়, চোরাই গাড়ির ভেতরে এক ব্যক্তি কথিতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি পরে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এরপর গত রাতে সাড়ে ১১টার দিকে বারউড এলাকা থেকে ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুমোদন ছাড়া ছোট আকারের আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল নয়) রাখা এবং নিষেধাজ্ঞার আদেশ থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের অভিযোগ।
অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপজ্জনক অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র ডাকাতি, বাড়ি ভাঙার সরঞ্জাম রাখা, সম্পত্তি ধ্বংস বা ক্ষতি করা, মালিকের অনুমতি ছাড়া যানবাহন চালানো এবং অযোগ্য ঘোষিত থাকার সময় মোটরযান চালানো।
এই অভিযোগগুলো থেকে বোঝা যায়, পুলিশ ঘটনাটিকে শুধু অস্ত্রের ঘটনা হিসেবে দেখছে না; তার সঙ্গে যানবাহন চুরি ও ডাকাতির মতো অভিযোগও যুক্ত হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার পূর্ণ চিত্র খতিয়ে দেখছেন।
ডালউইচ হিল সিডনির ইনার ওয়েস্টের একটি আবাসিক এলাকা। দিনের বেলায় সেখানে অস্ত্রধারীর খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পুলিশের তৎপরতায় এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ঘটনাটির প্রাথমিক পর্ব শেষ হলেও আইনি প্রক্রিয়া এখন শুরু। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে, যেখানে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
পুলিশের তদন্তে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে—বিশেষ করে কথিত চোরাই গাড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস সম্পর্কে। সেসব তথ্য সামনে এলে ঘটনার পুরো পরম্পরা আরও স্পষ্ট হবে।



