ব্রাজিলের রানঅফ নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে আমাজন বনভূমি
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রানঅফ পর্বে সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়গুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে আমাজন বৃষ্টিবন। দেশটির প্রেসিডেন্ট পদের চূড়ান্ত লড়াইয়ে এই বনভূমির ভবিষ্যৎ এখন শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, ভোটের ফল নির্ধারণকারী একটি রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে।
আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টিবন, যার সবচেয়ে বড় অংশ ব্রাজিলের ভেতরে। এই বনভূমি বিশ্বের জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তা নিয়ে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি পৌঁছে যায় ব্রাজিলের সীমানার বাইরেও।
রানঅফ হলো নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্ব, যেখানে প্রথম পর্বে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে আবার ভোট হয়। সেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের মুখে আমাজন-প্রশ্ন সামনে চলে আসায় ভোটারদের সামনে বনভূমি রক্ষা ও অর্থনৈতিক ব্যবহারের পুরোনো বিতর্কটি নতুন করে হাজির হয়েছে।
বিতর্কের একদিকে থাকে বন সংরক্ষণ, বন উজাড় ঠেকানো ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার দাবি। অন্যদিকে থাকে কৃষি, খনি ও উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে বনাঞ্চল ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
এই টানাপোড়েনের কারণেই আমাজনকে বর্ণনা করা হচ্ছে নির্বাচনের একটি ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে—যেখানে দুই পক্ষের প্রতিশ্রুতি ও অবস্থানের পার্থক্য ভোটারদের পছন্দকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট যিনিই হোন, আমাজন নিয়ে তাঁর নীতি আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনাতেও গুরুত্ব পাবে। বন উজাড়ের হার বাড়া বা কমার ওপর বিশ্বের নজর থাকে, কারণ কার্বন শোষণে এই বনের ভূমিকা পুরো গ্রহের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ—নির্বাচনটির শিরোনামে তাই ‘প্ল্যানেট আর্থ’ বা পৃথিবী গ্রহের প্রসঙ্গটিই উঠে এসেছে।
অর্থাৎ এই নির্বাচনের ফল শুধু ব্রাজিলের সরকারই বদলাবে না, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করবে আগামী বছরগুলোতে আমাজনের ওপর চাপ বাড়বে নাকি সংরক্ষণের উদ্যোগ জোরদার হবে। সেই কারণেই দেশটির অভ্যন্তরীণ ভোট হলেও এর দিকে তাকিয়ে আছে পরিবেশবাদী ও আন্তর্জাতিক মহল।
রানঅফের প্রচারে পরিবেশ-ইস্যু এতটা ওপরে উঠে আসা নিজেই একটি বার্তা—ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে আমাজনের ভাগ্য এখন জীবিকা, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
তবে প্রাথমিক এই প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর নাম, নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি কিংবা জনমত জরিপের কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোন পক্ষ আমাজন-প্রশ্নে এগিয়ে আছে, সে বিষয়ে এই পর্যায়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এখন সবার নজর রানঅফ ভোটের ফলের দিকে। ফল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে, আমাজন বনভূমি নিয়ে ব্রাজিল কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে—আর সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব যে সুদূরপ্রসারী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কোনো সন্দেহ নেই।




