যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় ভেন্যু 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' সফর আয়োজনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, দাবি ম্যাকলেমোরের

মার্কিন সংগীতশিল্পী ম্যাকলেমোর দাবি করেছেন, তাঁর 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' সফরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় ভেন্যু তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।
ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, প্রুডেনশিয়াল সেন্টার, বার্কলেস সেন্টার, ইউবিএস অ্যারেনা, ইনটুইট ডোম, কিয়া ফোরাম, ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনা, চেজ সেন্টার ও ক্লাইমেট প্লেজ অ্যারেনা—এই নয়টি ভেন্যুই না বলেছে বলে জানান ম্যাকলেমোর, যাঁর আসল নাম বেন হ্যাগার্টি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত এসেছে 'যখন তাঁরা জানতে পারেন এগুলো ফিলিস্তিনের জন্য আমার বেনিফিট শো'।
ম্যাকলেমোর লিখেছেন, 'বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফর করছি, এর আগে কখনো এমন কিছু অনুভব করিনি।'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানো অ্যাক্টিভিস্ট, কবি, বিনোদনশিল্পী ও শিল্পীরা 'দশকের পর দশক' ধরে এই আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন।
'থ্রিফট শপ' গায়ক বলেন, গত তিন বছরে তাঁর একমাত্র আসল আফসোস হলো, 'জায়নিস্টরা যখন টেবিলের নিচে আমাকে লাথি মারছিল, তখন প্রকাশ্যে কথা না বলা।' তিনি বলেন, 'কিন্তু আমি যে ভয়ভীতি, কারসাজি ও দমনের মুখোমুখি হয়েছি, তা ক্ষমতায় থাকা লোকেরা বিনোদনশিল্পীদের চুপ রাখার জন্য ব্যবহার করে। এটাই তাঁদের মূল কৌশল—চুপ করে থাকো আর খেলো, নইলে শাস্তি পাবে।'
ম্যাকলেমোর লেখেন, 'কিন্তু এই মুহূর্তে, আমি ফ্রি প্যালেস্টাইনের পক্ষে না থাকা কারও সঙ্গে কোনো সম্পর্ক—ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত—বজায় রাখার ব্যাপারে তিন বছর পার করে দিয়েছি।' তিনি ব্যাখ্যা করেন, ফিলিস্তিন নিয়ে নিজের মতামত গোপন রাখার চেয়ে বিনোদন জগতের 'প্রতিটি সুযোগ' হারাতেই তিনি রাজি।
ভেন্যু মালিকদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, 'এই মালিকদের কাছে, "ফ্রি প্যালেস্টাইন" শব্দগুলো হুমকি। কারণ এগুলো বিপজ্জনক, তা নয়; বরং এই শব্দগুলো তাঁদের গড়ে তোলা ক্ষমতার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে।'
অন্য শিল্পীদের চুপ না থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি ইউরোপে তাঁর তিনটি শোয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, 'দেখুন ইউরোপে কী ঘটেছে। তিনটি বিক্রি হয়ে যাওয়া অ্যারেনা। বিভিন্ন পটভূমি, ধর্ম ও জীবনযাত্রার হাজারো মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে। চল্লিশের বেশি শিল্পী ও বক্তা ফিলিস্তিনের মুক্তির পেছনে নিজেদের নাম ও প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন। এই আন্দোলনকে ঘৃণায় গড়া বলে চিত্রিত করার সব চেষ্টা সত্ত্বেও, সেই কক্ষগুলো ভরেছিল ভালোবাসায়।'
তাঁর বিবৃতিতে ঐতিহাসিক মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের সিনেট আসনে জয়ের কথা উল্লেখ ছিল। ম্যাকলেমোর লেখেন, 'জোয়ার ঘুরছে। মাত্র তিন রাত আগে, আবদুল এল-সায়েদ গাজায় গণহত্যা বন্ধ করা ও ইসরায়েলের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার প্ল্যাটফর্মে তাঁর সিনেট দৌড়ে জয় পেয়েছেন। এইপ্যাক তাঁকে হারাতে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার খরচ করেছে। তবু তাঁরা জিততে পারেনি।'
ম্যাকলেমোর লেখেন, 'ক্ষমতা কেনার সমস্যা হলো, মানুষকেও কিনে ফেলা হয়েছে বলে বিশ্বাস করা। বিলিয়নিয়াররা আমাদের নীরবতা ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে। তাঁরা ভুলে যান যে আমরাই তাঁদের টিকিট কিনি। আমরাই তাঁদের অ্যারেনা ভরাই। আমরাই তাঁদের সাম্রাজ্য গড়ি। আর সেগুলো ভেঙে ফেলার ক্ষমতাও আমাদের আছে।'
ম্যাকলেমোর আরও লেখেন, 'জনগণ কথা বলেছে। আমরা গণহত্যার অবসান চাই এবং আমরা ফ্রি প্যালেস্টাইন চাই। অ্যারেনাগুলো তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন আমরা আমাদেরটা নেব। তাঁরা যদি মনে করেন আমেরিকায় আর কখনো অ্যারেনায় না খেলার হুমকি আমাকে নীরবতায় ফিরিয়ে নেবে, তবে তাঁরা আমাকে একেবারে ভুল বুঝেছে।' বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের সমর্থনে আরও শো আয়োজন করবেন। 'আমরা সম্ভবত ওই জিনিসটা বাইরে নিয়ে যাব, যেখানে সেটা প্রথম থেকেই থাকার কথা ছিল।'
সেপ্টেম্বরে বিতর্ক শুরু হয়। ৪ সেপ্টেম্বর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সফরে উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে থাকাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী মন্তব্য করার পর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন ম্যাকলেমোর, যার ফলে তাঁকে উদ্বোধনী শিল্পীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ায় এড শিরানের কনসার্টের বাইরে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ করেন।




