২০২৮ সালের মধ্যে মঙ্গলে পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযান পাঠাবে নাসা, ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, নাসা আগামী দুই বছরের মধ্যে মঙ্গলগ্রহে প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযান পাঠাবে। একই সঙ্গে চাঁদে মার্কিন নভোচারীদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদের পৃষ্ঠে স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টারে ইউপি সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প এ মিশনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটি তাঁর প্রশাসনের মহাকাশে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোর বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ।
ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে নাসা মঙ্গলগ্রহে প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করবে।
প্রেসিডেন্ট বলেন, এ মিশন শেষ পর্যন্ত লাল গ্রহে মার্কিন নভোচারী পাঠানোর পথ তৈরি করবে। তিনি বলেন, আমরা এমন পথ তৈরি করছি, যাতে নভোচারীরা লাল গ্রহে মার্কিন পতাকা স্থাপন করতে পারেন।
এই পরিকল্পিত মিশন এমন সময়ে আসছে, যখন নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির লক্ষ্য মঙ্গলগ্রহে নভোচারী পাঠানোর আগে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি গড়ে তোলা।
এ বছরের শুরুতে আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে উড়ে যাওয়ার (লুনার ফ্লাইবাই) কাজ শেষ করেছেন। আর্টেমিস-৩ ২০২৭ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশযান ও অবতরণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে। আর্টেমিস-৪ ২০২৮ সালের শুরুতে চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাঁদের মাটিতে স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তুলবে।
প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি জারি করা তাঁর আমেরিকান ডিক্লারেশন অব ফ্রিডম ইন স্পেসের কথাও উল্লেখ করেন। এতে মার্কিন আইনের অধীনে মহাকাশের বাইরে অনুসন্ধান ও বসতি স্থাপনের অধিকার দাবি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সপ্তাহেই আমি আমেরিকান ডিক্লারেশন অব ফ্রিডম ইন স্পেস জারি করেছি, যেখানে মহাকাশের সবকিছু মার্কিন বসতি, মার্কিন সভ্যতা ও মার্কিন স্বাধীনতার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও সংস্থার মঙ্গল লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
৬ নভেম্বর কেনেডি স্পেস সেন্টারে নাসার ম্যাক্স পাওয়ার অনুষ্ঠানে আইজ্যাকম্যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি ফলক উপহার দেন। সে সময় নভোচারীরা তাঁদের অভিবাদন জানান।
আইজ্যাকম্যান বলেন, আমরা সৌরজগতের আরও গভীরে যাব এবং পরবর্তী বিশাল পদক্ষেপের আরও কাছাকাছি পৌঁছাব।
তিনি প্রশাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বর্ণনা করে বলেন, যেদিন মার্কিন নভোচারীরা মঙ্গলগ্রহে মার্কিন পতাকা স্থাপন করবেন।
প্রশাসন এর আগে আরও বৃহত্তর মহাকাশ পরিকল্পনার রূপরেখা দিয়েছে, যার মধ্যে আগস্টে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি স্পেস ফোর্স, নাসা ও বেসামরিক মহাকাশযান খাতে ক্যারিয়ারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেবে।
ট্রাম্প তাঁর বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের আহ্বান অনুসন্ধান করা। আমাদের উদ্দেশ্য গড়ে তোলা, আর আমাদের লক্ষ্য সবসময় জয়।


